

জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ সাত নেতার মামলার রায় আগামীকাল মঙ্গলবার ঘোষণা করার দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ১৭ আগস্ট উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। মামলার সব আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় গত ২ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব সমাপ্ত হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের পেশ করা দালিলিক প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আসামিরা জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশে দেশজুড়ে সশস্ত্র হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। - প্রসিকিউশন পক্ষ
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং একাধিক গোপন বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। আন্দোলন দমনে কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তারা দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা এবং ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
আদালতের এই রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। আগামীকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের দিকে দেশের নজর রয়েছে, যেখানে পলাতক এই আসামিদের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশনা আসতে পারে। বিচার প্রক্রিয়া শেষে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।