

জাতীয় গ্রিডে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণু শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনের ফাঁকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যুক্ত করার ক্ষেত্রে যেসব বাধা বা দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারকরা।
বৈঠক চলাকালে পারমাণবিক নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার তাগিদ দেন বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে ফকির মাহবুব আনাম স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, রোসাটমের পক্ষ থেকে এই মেগা প্রকল্পের জন্য নিরবচ্ছিন্ন কারিগরি ও কৌশলগত সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতের চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে। প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে এটি দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হতে যাচ্ছে। বৈঠকে উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পারস্পরিক বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে স্মারক উপহারও বিনিময় করা হয়, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রূপপুর প্রকল্পের মূল অবকাঠামোগত কাজ প্রায় শেষের পথে। এখন কমিশনিং ও পরীক্ষামূলক উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে। রোসাটম ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ তদারকিতে এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে খুব শীঘ্রই জাতীয় গ্রিডে পারমাণবিক বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন বাস্তব রূপ লাভ করবে।