

দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রাক প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।
আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের বাধ্যবাধকতার কারণে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে কমিশন। বিভিন্ন বার্ষিক পরীক্ষা ও ধর্মীয় উৎসব বিবেচনা করে সাত ধাপে ভোট গ্রহণের এই প্রাথমিক সূচি তৈরি করা হয়েছে। প্রবাসীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ, ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপ এবং ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামী ২০২৭ সালের ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ৪ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোট গ্রহণের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, প্রথম পাঁচটি ধাপেই অধিকাংশ ইউনিয়নের নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। ষষ্ঠ ও সপ্তম ধাপ মূলত সংরক্ষিত রাখা হচ্ছে মামলা সংক্রান্ত জটিলতা বা অন্যান্য কারণে পিছিয়ে পড়া ৫৬টিসহ বাকি ইউনিয়নগুলোর জন্য। বিদ্যমান আইনের অধীনেই এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম ধাপের নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ঠাকুরগাঁও ব্যতীত বাকি ৬৩টি জেলার আনুমানিক ৮০টি উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে প্রথম ধাপে ভোট হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে একটি উপনির্বাচন থাকায় সেখানকার কার্যক্রম দ্বিতীয় ধাপে স্থানান্তর করা হয়েছে। সাধারণত জেলার সদর উপজেলাগুলোকে প্রথম ধাপে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও কুমิล্নার মতো অধিক উপজেলা বেষ্টিত জেলাগুলোতে ৩টি করে এবং ১০ বা ততোধিক উপজেলা থাকা জেলায় ২টি করে উপজেলাকে প্রথম ধাপে রাখা হয়েছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা এবং ২১ সেপ্টেম্বর আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রস্তুতিমূলক সভায় ইউপি নির্বাচন পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একটি সুসংগঠিত নির্বাচন উপহার দিতে আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তিন দিনে নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপে বসবে কমিশন। প্রতি দল থেকে দুজন করে প্রতিনিধি এতে অংশ নেবেন।
নির্বাচন কমিশনের এই সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির মাধ্যমে একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন। মামলার জট ও অন্যান্য জটিলতা কাটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব ধাপের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।