

খুলনা: দেশের বাইরে অবস্থান করেও আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেওয়ার এক অভিনব জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে খুলনায়। মারামারির একটি মামলায় দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত ফিরোজ আলম শাওন নামের এক ব্যক্তি আদালতে হাজির না হয়ে অন্য একজনকে নিজের বদলে দাঁড় করিয়ে জামিন নেন। সিনেমা আয়নাবাজির আদলে সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর জামিন জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর পুলিশ গত ৬ আগস্ট খুলনা সদর থানায় মামলা দায়ের করে এবং শনিবার রাতে শাওনের ভাইকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ রাতে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি বরুইতলা ঘাট এলাকায় প্রতিবেশী মুন্সি তরিকুল আমিনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে ফিরোজ আলম শাওন ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তরিকুল বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ তদন্ত শেষে শুধু শাওনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। বর্তমানে খুলনার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। তবে মামলার অভিযোগ গঠনের দিন বাদীপক্ষ জানতে পারে যে, এর আগেই গত ১৬ মার্চ শাওন আদালত থেকে জামিন নিয়ে নিয়েছেন। অথচ বাদী নিশ্চিত করেন যে শাওন দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করছেন এবং ঘটনার সময়ও তিনি দেশে ছিলেন না।
বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চতুর্থ আদালতের বিচারক ফাতেমা জান্নাত বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালান। অনুসন্ধানে জামিন জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ার পর গত ২২ জুলাই খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভুল ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করে প্রতারণা, নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতি এবং জাল কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে গত ২ আগস্ট আদালত খুলনা সদর থানাকে মামলা রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।
গত ৬ আগস্ট খুলনা সদর থানায় প্রতারণা ও জাল কাগজপত্র ব্যবহারের অভিযোগে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ফিরোজ আলম শাওনকে এবং দ্বিতীয় আসামি করা হয় তাঁর আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলীকে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গত শনিবার রাতে শাওনের ভাই ফেরদৌস আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ এবং আজ রবিবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার অপর আসামি আইনজীবী সরদার শাহজাহান আলী ইতিমধ্যে আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান খান জানান, মামলার মূল আসামি শাওন দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করলেও মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে এই ভুয়া জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আদালতের নথিপত্র ও পাসপোর্টের তথ্য মিলিয়ে দেখার পরেই এই পুরো জালিয়াতি চক্রের বিষয়টি প্রকাশ পায়।