

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষের জেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহ্বায়ককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংসদ। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রথমসারির এই ছাত্র সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে সাড়ে বারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা এলাকায়। নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে মঞ্চে বসা নিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পদধারী নেতা সুমন সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রুমির অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রাথমিক কথা-কাটাকাটি থেকে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এতে ক্যাম্পাস এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তার সন্তোষজনক লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন গণিত বিভাগের ১৮তম ব্যাচের তানজিল আহমেদ মিথিল, রসায়ন বিভাগের ১২তম ব্যাচের রবিউল ইসলাম শাওন এবং ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ১৬তম ব্যাচের মনিরুজ্জামান মনির। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামাল হোসেন জানান, আহতদের মধ্যে দুজনের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং একজনকে সার্জারি বিভাগে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত নেতা সুমন সরদার দাবি করেছেন যে তিনি মূল অনুষ্ঠান পরিচালনায় ব্যস্ত ছিলেন এবং জুনিয়রদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কোনো অপরাধমূলক আচরণ বরদাশত করা হবে না। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।