

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিজের মৃত্যুর ভুয়া খবরে তীব্র বিরক্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যজন আবুল হায়াত। গত শনিবার রাত থেকে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ভিডিওতে তাঁর মৃত্যুর অবাস্তব ও ভিত্তিহীন খবর প্রচার করা হয়। রোববার বিকেলে নিজেই সংবাদমাধ্যমকে ফোন করে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে তাঁর পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা চরমভাবে বিব্রত হয়েছেন বলে জানান তিনি।
গত শনিবার রাত থেকে সামাজিক মাধ্যমে আবুল হায়াতের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তাঁর আত্মীয়স্বজন, বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা উদ্বিগ্ন হয়ে একে একে ফোন করতে শুরু করেন। এমনকি অনেকেই আতঙ্কে কেঁদে ফেলেন। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে তেমন কান না দিলেও রোববার নাগাদ গুজবটি মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় তিনি নিজে মুখ খুলতে বাধ্য হন। পরিবারের পক্ষ থেকেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
আমি একদম ঠিক আছি। গতকাল থেকে এমন খবর ছড়িয়েছে। প্রথমে বিষয়টি খুব একটা পাত্তা দিইনি। কিন্তু আজ দেখছি, এটা সীমা অতিক্রম করেছে। দেশ-বিদেশে থাকা আমার বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয়স্বজনেরা একের পর এক ফোন করছেন। কেউ কেউ তো কাঁদছিলেনও। বিষয়টি খুবই বিরক্তিকর এবং বিব্রতকর, বলেন আবুল হায়াত।
জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করার মতো মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন এই প্রবীণ শিল্পী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যাঁরা এসব খবর ছড়াচ্ছেন, তাঁদের প্রতি তিনি অত্যন্ত বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। একজন জীবিত মানুষকে এভাবে মৃত ঘোষণা করা শুধু অপরাধই নয়, এর মাধ্যমে তাঁর পরিবার ও ভক্তদের মনে গভীর আঘাত দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিকবার এই অভিনেতার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল, যা তাঁর পরিবারকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল।
১৯৬৯ সালে ‘ইডিপাস’ নাটকের মাধ্যমে ছোটপর্দায় অভিনয় জীবন শুরু করা আবুল হায়াত দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি সফলভাবে নাটক পরিচালনা এবং সাহিত্যচর্চাও করে যাচ্ছেন তিনি। শিল্পকলায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। এই ধরনের বরেণ্য শিল্পীদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দায়িত্বহীন গুজব ছড়ানো রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।