

চট্টগ্রাম: আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মিলেই দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেন, একদিকে আওয়ামী লীগ ভারতের দালালি করেছে, অন্যদিকে বিএনপি মানুষের পকেট কেটে চাঁদাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে। এই নষ্ট রাজনীতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে নতুন রাজনৈতিক শক্তিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় আয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সম্মানিত নাগরিকদের সাথে মতবিনিময় সভা ও যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে সংস্কারের যে আশা তৈরি হয়েছিল, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুনরায় চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বেড়ে যাওয়ার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা। আগামী স্থানীয় নির্বাচনে যদি পেশিশক্তি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কালো টাকার খেলা দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তবে সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। একই সাথে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকার মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
"দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সিদ্ধান্ত একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লন্ডনের শীর্ষ দফতর থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে পকেট কাটা, বালি ও মাটি উত্তোলন এবং জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের উৎসব চলছে।"
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, প্রায় চৌদ্দশ ভাই জীবন দিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পকেটে টাকা না থাকলেও বা পায়ে ছিঁড়ে যাওয়া স্যান্ডেল থাকলেও কেউ আদর্শ বিক্রি করবে না এবং কোনো চাঁদাবাজির রাজনীতিতে নাম লেখাবে না। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা, শ্রমিক, নারী ও আলেম সমাজের যে অভূতপূর্ব একতা দেখা গেছে, সেই শক্তির মাধ্যমেই দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক একরামুল হক, দক্ষিণ জেলা শাখার আহ্বায়ক লায়ন এ. এম. মুন্না চৌধুরী, দক্ষিণ জেলার সদস্য সচিব জুবাইরুল আলম মানিক, জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক শাহেদুল ইসলামসহ স্থানীয় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।