

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত ৩৪তম, ৩৫তম ও ৩৬তম বিসিএস নন-ক্যাডার শিক্ষকদের সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে, যা দেশের সব আঞ্চলিক উপপরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রথম ধাপের এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের চাকরি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও তথ্য কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পদোন্নতির দাবি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া গতির মুখ দেখছে। বিসিএস নন-ক্যাডার থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পেশাগত অগ্রগতি নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আঞ্চলিক উপপরিচালকদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের তালিকা ও তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হার্ডকপি দুই সেট বাহক মারফত সরাসরি অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাগজপত্র জমা না দিলে পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে।
সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি প্রত্যাশী শিক্ষকদের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র ও প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে বিগত ৫ বছরের বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন বা এসিআর। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া একটি বিশেষ প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে, যেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে যে প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় বা ফৌজদারি মামলা কিংবা অডিট আপত্তি নেই। পাশাপাশি চাকরি সন্তোষজনক মর্মেও প্রধান শিক্ষকের প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের হতাশা কাটবে এবং শিক্ষা প্রশাসনে গতিশীলতা আসবে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বরের পর প্রাপ্ত নথিপত্রগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।