

ব্রাজিল: ব্রাজিলের রাজনীতিতে চার বছর আগের নির্বাচনের নাটকীয়তার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এবারের নির্বাচনে লড়ছেন কট্টর ডানপন্থী নেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। নির্বাচনে মোট ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হচ্ছে লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে।
চার বছর আগে জইর বলসোনারোকে মাত্র ১ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন বর্তমান বামপন্থী নেতা লুলা দা সিলভা। নির্বাচনের পর বলসোনারোর সমর্থকেরা কংগ্রেস ভবনে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন ৭১ বছর বয়সী সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো। নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হওয়ায় তিনি বর্তমানে গৃহবন্দী আছেন এবং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি অবয়ব ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিয়ে আইনি বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
বিবিসি ব্রাজিলের জরিপ অনুযায়ী, লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারোর সমর্থন প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি, যেখানে সামান্য এগিয়ে আছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা।
ব্রাজিলে এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি। প্রথম দফার ভোটে কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশ না পেলে সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী আগামী ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে লড়বেন। ৮০ বছর বয়সী লুলা এর আগে তিনবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে ‘বোলসা ফ্যামিলিয়া’ কর্মসূচি দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন। তবে আমাজন নদীর মোহনার কাছে তেল অনুসন্ধানের পক্ষে তাঁর অবস্থান পরিবেশবাদীদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো কট্টরপন্থী খ্রিষ্টান, কৃষি ব্যবসায়ী এবং তাঁর বাবার সমর্থকদের একত্রিত করার চেষ্টা করছেন। অপরাধ দমনে দীর্ঘ মেয়াদের শাস্তি ও অস্ত্র আইন শিথিল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের এবারের নির্বাচনে ভোটারদের একটি বড় অংশ শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আমাজন বন রক্ষা ও অর্থনৈতিক নীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণও এবারের নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখছে। দুই প্রধান প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটির পরবর্তী রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।