

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তিনজন মারা গেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায়। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ২৭১ জনের মৃত্যু হলো। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯০২ জন। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার সকাল আটটা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এই ১ হাজার ৯০২ জন রোগী ভর্তি হন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮ হাজার ৩৬০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও চারজন নারী রয়েছেন। সার্বিকভাবে চলতি বছরে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪৮ শতাংশ পুরুষ এবং ৫২ শতাংশ নারী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নতুন রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (সিটি কর্পোরেশনের বাইরে) ৪০১ জন। এছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০৬ জন, চট্টগ্রামে ২৭২ জন, বরিশালে ২১সেন জন, রাজশাহীতে ১০৫ জন, ময়মনসিংহে ৯৮ জন এবং রংপুরে ৬৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর বাইরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২০৬ জন এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২২৩ জন রোগী নতুন করে চিকিৎসা নিতে শুরু করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একদিকে যেমন নতুন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সংখ্যাও কম নয়। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮৮ জন রোগী। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৮২ হাজার ৩৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিলে সুস্থ হওয়ার হার বৃদ্ধি পায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনসচেতনতা এবং এডিস মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
চলতি বছরের এই ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোর তুলনায় বেশ উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগ যৌথভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও আক্রান্তের সংখ্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের পাশাপাশি অন্যান্য সময়েও এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা না হলে এই স্বাস্থ্য সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই বাসাবাড়ি ও চারপাশ পরিষ্কার রাখার কোনো বিকল্প নেই।