

প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে এবার সাবরেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এই বিশেষ লটারি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার ডিস্ট্রিক্ট ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোর নির্ধারিত পদের বিপরীতে বিভিন্ন জেলায় কর্মরত সাবরেজিস্ট্রারদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমেই চূড়ান্ত প্রার্থীদের ঢাকায় পদায়ন করা হবে। এর ফলে পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সুপারিশ বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকছে না বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার লটারির মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই বিশেষ বদলি কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি নিজে উপস্থিত থেকে লটারি কার্যক্রম পরিচালনা করবেন বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পুলিশ বাহিনীতে লটারির মাধ্যমে রদবদল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সাবরেজিস্ট্রার বদলিপ্রক্রিয়া থেকেও দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব পুরোপুরি দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে চরম জনবলসংকট চলে আসছে। এই জনবলসংকটের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে বহিরাগত দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা সাধারণ মানুষের সেবা প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করছিল এবং অনিয়ম ও হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি করছিল। এই অচলাবস্থা নিরসনে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়গুলোতে কর্মকর্তা পদায়নে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা আনতে মন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে লটারি অনুষ্ঠানের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি দপ্তরে বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সুপারিশ এবং তদবির সংস্কৃতি দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা। অতীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বচ্ছতার স্বার্থে দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার এবং ৫২৭টি থানার ওসি পদে লটারির মাধ্যমে রদবদল করা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আইন মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ বিচার প্রশাসন ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লটারির মাধ্যমে যোগ্য ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের ঢাকায় পদায়ন করা হলে সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
সার্বিকভাবে, লটারির মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রার বদলির এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সাবরেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্নীতির পথ অনেকটাই সংকুচিত হবে। আগামীকালের লটারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তারা যোগদান করলে জনদুর্ভোগ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি নাগরিক সেবা আরও সহজতর হবে বলে আশা প্রকাশ করছে আইন মন্ত্রণালয়।