

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, তাঁর স্ত্রী এবং তিন সন্তানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা মোট ১৫৫ কোটি টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালত এই নির্দেশ দেন। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাজী জাফর উল্যাহসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং এ বিষয়ে বর্তমানে অনুসন্ধান চলছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের নামে অর্জিত এই অস্থাবর সম্পত্তি অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগ নিষ্পত্তি হওয়ার আগে এই সম্পদগুলো সরিয়ে ফেলা হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই আদালত এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
আদালতে সম্পদ অবরুদ্ধ করার এই আবেদনটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, আসামিদের অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ সুরক্ষার জন্য এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে এই অবরুদ্ধকরণের আদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কাজী জাফর উল্যাহর মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে কোটি কোটি টাকা রয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী নিলুফার জাফর উল্যাহর নামেও বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ জমা রয়েছে। এছাড়া তাঁদের তিন সন্তান কাজী ওমর জাফর, কাজী রায়হান জাফর এবং আনুস্কা মেহরীন জাফরের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা হিসাবের অর্থও এই আদেশের আওতায় অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এফডিআর হিসাব এবং বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবও।
দুদকের চলমান অনুসন্ধান এবং আদালতের এই নির্দেশের ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের আর্থিক লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই ব্যাংক হিসাবগুলো থেকে কোনো ধরনের অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তর করতে পারবেন না।