

প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় ও মজার মুহূর্তগুলোকে ফ্রেমবন্দी করে প্রকাশিত হয়েছে মর্যাদাপূর্ণ নিকন কমেডি ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর ফাইনালিস্টদের তালিকা। এবারের প্রতিযোগিতায় ফিটনেস সচেতন ভাল্লুকের মর্নিং এক্সারসাইজ, রাগী মুখের পেঁচা এবং হাস্যোজ্জ্বল ভাল্লুকের মতো ১০টি অসাধারণ ও হাস্যরসাত্মক ছবি স্থান পেয়েছে। বন্যপ্রাণীর অদ্ভুত সব আচরণ ও অভিব্যক্তি নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা বিশ্বজুড়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ফাইনালিস্ট ছবির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার লেক ক্লার্ক এলাকায় ধারণ করা একটি নারী বাদামী ভাল্লুকের ছবি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। ছবিটিতে দেখা যায়, ভাল্লুকটি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে বাইসাইকেল কিক দিয়ে তার সকালের ব্যায়াম সেরে নিচ্ছে। এছাড়া জার্মানির একটি লাল কাঠবেড়ালী থেকে শুরু করে ফিনল্যান্ডের জলময় বরফে সাদা লেজের ইগলের অবতরণ এবং পেরুর কুসকো অঞ্চলে প্রাইং ম্যান্টিসের অদ্ভুত পোজ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
চীন এবং ফিলিপাইনের বিভিন্ন জলরাশি ও বনে ধারণ করা হয়েছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ছবি। ফিলিপাইনের দুমাগুয়েতে পানির নিচে স্পেডফিশের একটি দলের সামনে বিশাল এক তিমি হাঙরের আবির্ভাব এবং মাছগুলোর ভীতসন্ত্রস্ত অভিব্যক্তি ক্যামেরাবন্দী করেছেন ফটোগ্রাফার কিও চেন। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যাচারাল ব্রিজেস স্টেট বিচে কেভিন লোম্যানের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এক তরুণ গ্রেট হর্নড পেঁচার দিকে কাঠবেড়ালীর মাঝ আকাশে উড়ে গিয়ে লম্ফঝম্প করার রোমাঞ্চকর মুহূর্ত।
ফটোসাংবাদিকরা বলছেন, বন্যপ্রাণীর এই স্বাভাবিক ও মজার আচরণগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতি কতখানি জীবন্ত ও বিস্ময়কর।
বন্যপ্রাণীর এই আনন্দদায়ক ছবিগুলোর পাশাপাশি তাদের সংরক্ষণের গুরুত্বের বিষয়টিও উঠে এসেছে। বোর্নিওর একটি বন্য ওটাংওকে খাবার শেষে মধ্যমা তোলার ভঙ্গিতে দেখা যায়, যা তাদের আবাসস্থল ধ্বংসের মতো গুরুতর সংকটের কথা মনে করিয়ে দেয়। পরিবেশবিদদের মতে, এই ধরনের হাস্যরসাত্মক ছবি শুধু বিনোদনই জোগায় না, বরং বিপন্ন প্রাণী ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।