

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি): রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় রাবি শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে আরও ছয়জন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিবৃতিতে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত সাপেক্ষে এই কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাঠানো বহিষ্কারাদেশের বিবৃতিতে বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আহসান হাবিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিব হাসানকে তাদের অর্পিত সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ছাত্রনেতা বিশাল চক্রবর্তীকে সংগঠনের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের পাশাপাশি রাবি ছাত্রদলের আরও ছয়জন দায়িত্বশীল নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হয়েছে। শোকজপ্রাপ্তরা হলেন, সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, শরিফুল ইসলাম, বুলবুল রহমান, ফারুক হোসেন, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহারিয়ার আলম এবং ছাত্রদল কর্মী সাজু।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দায়িত্বশীল পদে আসীন থেকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন আপনাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, এই মর্মে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় সভাপতির উপস্থিতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হলো।'
এই ঘটনার পর রাবি ক্যাম্পাস ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্র সংগঠনের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সংসদের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে বড় ভূমিকা রাখবে এবং দলীয় শৃঙ্খলা সুদৃঢ় করবে।