

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম আপগ্রেড ও মাইগ্রেশনের কাজ চলায় দেশের ৩৭টি ব্যাংকের মধ্যে ৩০টির বেশি ব্যাংকের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িক বন্ধ থাকছে। ব্যাংক ভেদে সেবার ধরন ও বন্ধ থাকার সময় কিছুটা ভিন্ন হলেও এটিএম, কার্ড, ফান্ড ট্রান্সফার, ই-কমার্স ও বাংলা কিউআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো ব্যাহত হবে। এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে লেনদেন করতে গিয়ে গ্রাহকদের বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এনআরবিসি ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এ বিষয়ে গ্রাহকদের সতর্ক করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সিস্টেম মাইগ্রেশন পরিচালিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংককে এই বিষয়ে আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে জানা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা যেন সম্ভাব্য ভোগান্তি এড়াতে গ্রাহকদের আগেই নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করে, যাতে গ্রাহকেরা আগে থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এ কারণে নেটওয়ার্কটির আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ থাকবে। - আরিফ হোসেন খান, মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।
একটি ব্যাংক জানিয়েছে, ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিউ-ক্যাশের আওতাভুক্ত এটিএম, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন বা সিআরএম, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এবং পিওএস সেবা বন্ধ থাকবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ডেবিট কার্ডসহ নির্দিষ্ট বিকল্প সেবা চালু রাখা হবে। অন্যদিকে, এনআরবিসি ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, নির্দিষ্ট এই সময়ে এটিএম, সিআরএম, কার্ডের লেনদেন ছাড়াও ফান্ড ট্রান্সফার ও বাংলা কিউআর সেবা স্থগিত থাকবে। তবে গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে এনআরবিসি প্ল্যানেট অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ, নগদ ও উপায়ে ফান্ড ট্রান্সফার করার সুবিধা খোলা রাখা হয়েছে।
কিউ-ক্যাশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৭টি ব্যাংক এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল ও কার্ডভিত্তিক লেনদেন পরিচালনা করে আসছে। একই সময়ে বিপুলসংখ্যক ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সেবা সীমিত থাকায় গ্রাহকদের স্বাভাবিক লেনদেনে বড় ধরনের স্থবিরতা আসতে পারে। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে নগদ টাকা উত্তোলন কিংবা কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিকল্প মাধ্যম প্রস্তুত না রাখলে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তাই নিজ নিজ ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট নোটিশ ও সময়সূচি দেখে লেনদেন করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।