

আজ থেকে ঠিক ৩৫ বছর আগে ১৯৯১ সালের এই দিনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছিল ঢাকাই চলচ্চিত্রের অন্যতম ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় সিনেমা ‘চাঁদনী’। প্রয়াত নির্মাতা এহতেশাম পরিচালিত এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই রূপালী পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল তারকা জুটি নাঈম ও শাবনাজের। মুক্তির পর পরই সারা দেশের দর্শকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছিল সিনেমাটি, যা পরবর্তীতে এই জুটিকে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যায়। ছবিটির তিন যুগ পূর্তি উপলক্ষে সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে এর পেছনের নানা স্মৃতিচারণ করেছেন চিত্রনায়ক নাঈম।
পরিচালক এহতেশামের সঙ্গে পারিবারিক সুসম্পত্রের সূত্র ধরেই মূলত চলচ্চিত্রে আসার সুযোগ হয়েছিল বলে জানান নায়ক নাঈম। মডেলিংয়ে আগে থেকেই অভিজ্ঞতা থাকায় তার কোনো ক্যামেরাভীতি ছিল না। পরিচালক এহতেশাম নিজেই শাবনাজের বাসায় গিয়ে তাকে নায়িকা হিসেবে চূড়ান্ত করেন। বারিধারায় প্রথম দিনের শুটিংয়ের কথা স্মরণ করে নাঈম জানান, মহরত থেকে শুরু করে প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল নতুন এক রোমাঞ্চ। ঢাকার কাজ শেষ করে পুরো ইউনিট চলে যায় সিলেটের জাফলংয়ে, যেখানে বিদ্যুতের অনুপস্থিতিতে হ্যাজাক বাতি জ্বালিয়ে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে শুটিং সম্পন্ন করতে হয়েছিল।
পরিচালক সাহেব খুব যত্ন নিয়ে কাজটি করেছিলেন। আমরা নতুন শিল্পীরাও নিজেদের সর্বোচ্চ শ্রম ও সততা দিয়ে কাজ করেছি। শীতের মধ্যে কষ্ট হলেও ভালো লাগা থেকেই সেই কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছিল, যা আজও আমার স্মৃতির মণিকোঠায় উজ্জ্বল।
সিনেমা মুক্তির আগের রাতের স্মৃতিচারণ করে নাঈম বলেন, নতুন জুটি হওয়ায় শুরুতে মাত্র ২০ থেকে ২২টি হলে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। মুক্তির আগের রাতে পোস্টার ও ব্যানার ঠিকমতো লাগানো হয়েছে কি না, তা দেখতে রাতের শহরে ঘুরে বেড়িয়েছেন কলাকুশলীরা। এমনকি একদল কর্মী সিলেটে হযরত শাহজালাল (র.) এর মাজার জিয়ারত করতেও গিয়েছিলেন। প্রথম শোতে দর্শক কম থাকলেও দুপুরের পর থেকেই প্রতিটি সিনেমা হলে হাউজফুল দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। পরবর্তীতে দর্শকদের অভূতপূর্ব ভালোবাসায় হলের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।
পরিবারসহ মধুমিতা হলে সিনেমা দেখতে গিয়ে দর্শকদের প্রবল ভিড়ের মুখে পড়ার সেই সোনালী অভিজ্ঞতা আজও ভুলতে পারেন না এই অভিনেতা। দীর্ঘ তিন দশক পার হয়ে গেলেও দর্শকরা আজও ‘চাঁদনী’ সিনেমার গান ও গল্প মনে রেখেছেন, এটিকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন চিত্রনায়ক নাঈম। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই জুটি আজও দর্শকের মনে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।