

দেশের পরিবেশ রক্ষার্থে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অবিলম্বে একটি কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি পরিবেশবাদী ও গবেষকদের এক বৈঠকে এই জোরালো দাবি উত্থাপিত হয়, যেখানে অপরিকল্পিত নগরায়ন, শিল্প কারখানার ধোঁয়া এবং যানবাহনের কালো ধোঁয়াকে প্রধান দায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে বাতাসের মান দিন দিন অবনতির দিকে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণের মাত্রা বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। ইমারত নির্মাণ কাজের সময় নিয়ম না মানা এবং রাস্তায় উন্মুক্তভাবে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার কারণে বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব এবং আইন প্রয়োগের শৈথিল্যকে এই পরিস্থিতি অবনতির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিবেশ রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ভূমি নিশ্চিত করতে হলে কেবল প্রজ্ঞাপন জারি করলেই চলবে না, মাঠপর্যায়ে কঠোর মনিটরিং এবং বহুমুখী সমন্বিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, ট্রাফিক পুলিশ এবং সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। নিয়মিত পানি ছিটানো, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা এবং পুরনো ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল রোধে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার ওপর তারা জোর দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন করার কথাও বলা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নতুন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে। পরিবেশ দূষণ রোধে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা চলছে। সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বায়ুদূষণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে জানানো হয়েছে।