

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুর্নীতি দমন এবং বিদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার বরাবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে তিনটি নাগরিক সংগঠন। সোমবার সংসদ ভবনে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। অংশ নেওয়া সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, অহিংস গণ, অভ্যুত্থান বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন।
সোমবার রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, দুপুরে এই তিন সংগঠনের একটি যৌথ প্রতিনিধিদল জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে গিয়ে স্পিকারের দপ্তরে স্মারকলিপিটি পেশ করেন। এর পরপরই রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা সরকারের বর্তমান অর্থনৈতিক নীতি ও সংস্কারহীনতার তীব্র সমালোচনা করেন।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম, অহিংস গণ, অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম চৌধুরী। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, দেশের বর্তমান ভয়াবহ বেকারত্ব দূরীকরণ, দুর্নীতি রোধ ও টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারের চরম অনীহা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
"দেশের বর্তমান ভয়াবহ বেকারত্ব দূরীকরণ, দুর্নীতি রোধ ও টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কারে সরকারের চরম অনীহা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করতে হবে।" - হাসনাত কাইয়ূম, সভাপতি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে পেশ করা স্মারকলিপিতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লুটপাট ও অর্থ পাচার চিরতরে বন্ধ করা এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে একটি বিশেষায়িত স্বাধীন সংস্থা গঠন করা। এছাড়া, লুটপাটকারী ও অর্থ পাচারকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের জোর দাবি জানানো হয়। বেকারত্ব নিরসনে উদ্ধার করা অর্থ প্রান্তিক জনগণের মধ্যে সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিতরণ এবং দুর্নীতিবাজদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় তহবিল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে এই স্মারকলিপি জাতীয় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে সঠিক পুনর্বণ্টন করা গেলে দেশের প্রান্তিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতিশীলতা আসবে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন ও জনমত গঠন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: ৩০টির বেশি ব্যাংকের সেবা সাময়িক বন্ধ, ভোগান্তির আশঙ্কা