

নোয়াখালী: নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম সরকারকে তার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। শনিবার নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন এই প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ এবং পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেনবাগ থানার ওসির দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন ওসি (তদন্ত) হযরত আলী মিলন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নোয়াখালীর নবগঠিত ১০ নম্বর ইয়ারপুর ইউনিয়নের (সাবেক কাবিলপুর ইউনিয়ন) বটতলা বাজার এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এই ঘটনার পর সেনবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয় এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং প্রশাসনিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
এর পাশাপাশি, সেনবাগ পৌরসভার বাতানিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের বাড়িতে আয়োজিত একটি ভূরিভোজে ওসির অংশ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা এবং গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে এই শাস্তিমূলক বদলি ও প্রত্যাহারের নির্দেশ আসে। তবে এই বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষ থেকেও একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ভূরিভোজে অংশ নেওয়ার সমস্ত অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রত্যাহার হওয়া ওসি মো. আবদুর রহিম সরকার। তিনি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কানকিরহাটে একটি মাদকবিরোধী সভায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে স্থানীয় বেলাল কমিশনারের অনুরোধে ব্যবসায়ী শাহজাহান খোকনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাই। সেখানে আমি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করে কানকিরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হই। ভূরিভোজের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তিনি আরও দাবি করেন, একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তার বিরুদ্ধে এই ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বর্তমানে সেনবাগ থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের শৈথিল্য সহ্য করা হবে না এবং এ ধরনের ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নবনিযুক্ত ওসি তদন্ত হযরত আলী মিলন ইতোমধ্যে থানার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে এবং মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে কাজ শুরু করেছেন।