

তামাবিল সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এক দম্পতির তিনদিনের ভ্রমণ কেবল নতুন স্থান দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং এটি হয়ে উঠেছে খাসি সংস্কৃতি, প্রকৃতি এবং মানুষের জীবনকে কাছ থেকে অনুধাবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা। জাফলং থেকে ওপারের পাহাড় দেখার আগ্রহ থেকেই এই বিদেশভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে রূপ নেয় এক তথ্যসমৃদ্ধ ও সুশৃঙ্খল সফরে।
ঢাকা থেকে রাতের বাসে সিলেট পৌঁছে সেখান থেকে সিএনজিযোগে তামাবিল সীমান্তে পৌঁছান এই দম্পতি। বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন ও বিএসএফের প্রক্রিয়া শেষে ডাউকি ব্রিজ পেরিয়ে শুরু হয় মূল পাহাড়ি যাত্রা। সুপারি বাগান ঘেরা পাহাড়ি পথ ধরে তাঁদের প্রথম গন্তব্য ছিল পরিচ্ছন্ন গ্রাম মাওলিননং এবং প্রাকৃতিক প্রকৌশলের এক বিস্ময় জীবন্ত রুট ব্রিজ। এরপর চেরাপুঞ্জি বা সোহরার হিমশীতল ও তারাভরা রাতে কাটানো সময় তাঁদের ভ্রমণে যোগ করে অন্যমাত্রা।
প্রকৃতির কাছে গেলে সাধারণ জিনিসও কত অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে, সেটা ভ্রমণ না করলে বোঝা যায় না। সোহরার সেই রাতটি আমাদের ভ্রমণের অন্যতম সুন্দর রাত ছিল।
একজন সাধারণ পর্যটকের চেয়ে ভ্রমণবিষয়ক লেখকের দৃষ্টি সবসময় একটু আলাদা হয়। মেঘালয় ভ্রমণের সময় স্থানীয়দের বিভিন্ন প্রতীক, বিশেষ করে মোরগের প্রতীক দেখে তাঁদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। পরবর্তীতে গবেষণা করে তাঁরা 'সেং খাসি' (Seng Khasi) আন্দোলন ও স্থানীয় উপজাতির ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন। খাসি সম্প্রদায়ের বন্ধুসুলভ আচরণ এবং স্থানীয় ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। খাবারের ক্ষেত্রে ভেজ থালি ও মোমোর পাশাপাশি পাহাড়ি ঠান্ডা আবহাওয়ায় স্যুপের মতো গরম ম্যাগি তাঁদের বিশেষ পছন্দ ছিল।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ৩ বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণ, এলাকায় থমথমে ভাব
ভ্রমণের শেষ পর্যায়ে এসে সামান্য বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়, যখন মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে ফেরার ট্রেন মিস করেন তাঁরা। তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা তাঁদের আনন্দকে ম্লান করতে পারেনি। সিলেটে ফিরে পানশির বিপরীতে পার্কে সময় কাটানো এবং শহরের নিরিবিলিতে কাটানো মুহূর্তগুলো শেষ পর্যন্ত এই ভ্রমণের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে ওঠে। নিখুঁত পরিকল্পনা এবং অদম্য কৌতূহল থাকলে যেকোনো ভ্রমণ কেবল স্মৃতি হয়ে থাকে না, বরং তা জীবনের একটি গভীর উপলব্ধিতে পরিণত হয়।