

সৌদি আরব: সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ও ভয়াবহ হামলার পর ইয়েমেনে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক এই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার তীব্রতার কারণে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চলাচল প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হুতিদের এই ধারাবাহিক হামলা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে। গত ৪ অক্টোবর ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকার হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পরই মূলত এই হামলাগুলো শুরু হয়। সর্বশেষ গত শনিবার রিয়াদের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনসংলগ্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলীয় আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কিং খালিদ বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আলজেরিয়া, মরক্কো ও সুদানের নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। এই হামলায় হতাহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও রয়েছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এসব হামলার তীব্র জবাব দেওয়া হবে এবং হামলাকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার আগের সতর্কবার্তা আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সৌদি আরবের তেল স্থাপনাগুলো থেকেও কর্মীদের দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
হুতিদের এই ধারাবাহিক হামলার ফলে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করায় শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, কেবল শনিবার রাত পর্যন্ত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়ার প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এদিকে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ইতোমধ্যে নিরাপত্তাসংক্রান্ত সতর্কতা জারি করে মার্কিন নাগরিকদের বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই বিমানবন্দরগুলোতে হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের নতুন সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। বিশেষ করে মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশের মধ্যে ইরানের সঙ্গে নতুন করে কোনো সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে অনীহা রয়েছে। গত ১ অক্টোবর প্রকাশিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হয়নি। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সার্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন রণক্ষেত্র আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।