

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোলের ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের বিপ্লবী নেত্রী ইলা মিত্র স্মরণে তিন দিনব্যাপী ইলা মিত্র মেলা শুরু হয়েছে। ইলা মিত্রের মৃত্যুবার্ষিকী ও জন্মবার্ষিকী সামনে রেখে ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী দিনে নাচোল ডাকবাংলা মাঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয় এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় গণসংগীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বাণী পাঠ করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক ও মেলা কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন। রাষ্ট্রপতির বাণীতে শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ এই সাহসী নারীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং উপমহাদেশের কৃষক আন্দোলনের ইতিহাসে তাকে এক অবিস্মরণীয় নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ইলা মিত্র কৃষকদের দাবির পক্ষে লড়াই করেছেন। আজও বাংলাদেশের কৃষকদের সার, কীটনাশক, পানি এবং কৃষিপণ্যের লাভজনক দামের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মেলার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব ইসরাইল সেন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
সন্ধ্যায় ইলা মিত্র মেলা জাতীয় কমিটির সভাপতি ও সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ঢাকা থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন, স্বামী রমেন মিত্রের সংগঠিত করা কৃষক আন্দোলনে যোগ দিয়ে নিজের যোগ্যতা বলে নাচোলের তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতায় পরিণত হয়েছিলেন ইলা মিত্র। আদিবাসী নারী-পুরুষনির্বিশেষে তিনি সবার রানি মা হয়ে উঠেছিলেন। এছাড়া আয়োজকরা জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন ইলা মিত্রের ছেলে মোহন মিত্রসহ অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা।
উল্লেখ্য, ১৯২৫ সালের ১৮ অক্টোবর কলকাতায় জন্ম নেওয়া ইলা মিত্র ফসলের দুই-তৃতীয়াংশের ওপর কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে গড়ে ওঠা তেভাগা আন্দোলনে নাচোলে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছিলেন। এ জন্য তাকে পুলিশি নির্যাতন ও মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বিপ্লবী এই নেত্রী ২০০২ সালে মারা যান। মেলার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।