

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের চালানো আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক। হামলার পরপরই রিয়াদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে স্থানীয় প্রশাসন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, হুতি বিদ্রোহীদের এই আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
গত কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতের অংশ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। রিয়াদের একটি জনবহুল এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানলে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক থাকায় বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। সৌদির প্রতিরক্ষা বাহিনী এর আগে বেশ কিছু ড্রেন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও এই হামলাটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।
সন্ত্রাসী এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
হুতি বিদ্রোহীদের এই নির্বিচার হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেও নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে তদারকি করা হচ্ছে।
বর্তমানে রিয়াদের সার্বিক পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে। সৌদি প্রশাসনও এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।