

রোববার দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত উপায়ে সফলভাবে সংঘটিত হয়েছে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বা পারমাণবিক বিক্রিয়া। এর মাধ্যমে পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের পথে বাংলাদেশ হাত ছোঁয়ার দূরত্বে পৌঁছে গেল। পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই এই স্পর্শকাতর ধাপের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টরে একে একে বসানো হয়েছিল ১৬৩টি ইউরেনিয়াম জ্বালানি দণ্ড বা ফুয়েল অ্যাসেম্বলি। এই জ্বালানি এবং আনুষঙ্গিক সব সিস্টেম হরেক রকম নিরাপত্তা মানদণ্ড ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় সফলভাবে উৎরে যাওয়ার পরই এই ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়। আধুনিক পারমাণবিক প্রযুক্তির এই কর্মযজ্ঞ দেশের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রিঅ্যাক্টরে অনিয়মিতভাবে ফিশন ঘটালে চলে না, বরং চেইন বিক্রিয়া বজায় রাখতে হয়। ফিশনের প্রতিটি ধাপে উৎপন্ন নিউট্রনগুলোর মধ্যে গড়ে একটি সদস্য যখন পার্শ্ববর্তী নিউক্লিয়াসে ফিশন বিক্রিয়া ঘটায়, তখন চেইন বিক্রিয়া সুষম গতিতে চলতে থাকে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থার নামই হলো ক্রিটিক্যালিটি। এই অবস্থায় নিউট্রনের সংখ্যা বাড়েও না, কমেও না।
রিঅ্যাক্টর স্টার্ট-আপ বা ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের জন্য প্রথমে রিঅ্যাক্টরকে নির্ধারিত তাপমাত্রা ও চাপে নিয়ে আসা হয়। এরপর কন্ট্রোল রড ড্রাইভ মেকানিজম এবং বোরন দ্রবণের ঘনমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সুক্ষ্মভাবে চেইন বিক্রিয়া পরিচালনা করা হয়। কন্ট্রোল রডগুলোকে খুব সাবধানে ও ধীরগতিতে ছোট ছোট ধাপে ওপরে উঠানো হয় যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছালে কোরের মধ্যে নিউট্রনের ফ্লাক্সের পরিমাণ বাড়তে থাকে। তবে 'ইনভার্স কাউন্ট রেট রেশিও' গ্রাফ ব্যবহারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিখুঁতভাবে এই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। রূপপুর প্রকল্পের এই সাফল্য দেশের বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ রূপরেখাকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।