

নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চুরি হওয়া জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের ব্যাগ থেকে হারানো ল্যাপটপটি পাঁচ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লথ স্টোর থেকে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়। বিদেশি নাগরিকের ল্যাপটপ হারানোর এই ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৭ অক্টোবর, যখন বগুড়ার বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সান্তাহার হয়ে ট্রেনে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে আসেন জার্মান নাগরিক ক্রিল ল্যান্ডার। এ সময় হলুদ ভেস্ট পরা এক যুবক নিজেকে রেলকর্মী পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে এবং এটিএম থেকে টাকা তুলতে যাওয়ার সময় তার কাছে ব্যাগ রেখে যান ক্রিল। ফিরে এসে ব্যাগসহ ওই যুবককে আর খুঁজে পাননি তিনি। চুরি হওয়া ওই ব্যাগে ল্যাপটপ ও ক্যামেরাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল। মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে পরে ঢাকায় চলে যান ওই পর্যটক। তবে গত শনিবার রাজধানীর হাজারীবাগ থানায় তাকে একটি ম্যাকবুক উপহার দেন এক বেসরকারি কর্মকর্তা।
ল্যাপটপ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক গণমাধ্যমকে জানান, বিদেশি নাগরিকের ল্যাপটপ হারানোর বিষয়টি দেশের জন্য বিব্রতকর ছিল। নাটোর থেকে লালমনিরহাট পর্যন্ত বিভিন্ন রেলস্টেশনে খোঁজ নেওয়া হয়। তিনি বলেন,
গত ৮ অক্টোবর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে মাধনগর স্টেশনে সিটের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ল্যাপটপটি পান অমল কুমার শাহা। পরে সেটি নওগাঁয় নিজের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। ল্যাপটপটি চালু হওয়ার পর এর অবস্থান শনাক্ত করে সেটি উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় অমল কুমার শাহা ও তার ছেলে অন্তর কুমার শাহাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। অসৎ উদ্দেশ্যের প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ল্যাপটপ উদ্ধার হলেও পর্যটকের চুরি হওয়া ক্যামেরা এবং ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া মূল ব্যক্তিকে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই ব্যক্তির পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। ল্যাপটপের মালিক ক্রিল ল্যান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ল্যাপটপ উদ্ধারে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ভেতরের তথ্য যাচাই করে তিনি ল্যাপটপটি নিজের বলে নিশ্চিত করেছেন। মূল অভিযুক্তকে ধরতে দেশবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে ল্যাপটপ উদ্ধারের পর মামলার তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশনে নজরদারি বাড়িয়েছে রেলওয়ে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশা করছে, খুব দ্রুতই বাকি মালামাল উদ্ধার এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।