

বুড়িগঙ্গা নদীর দুই পাড়ের বিভিন্ন ঘাটে ডিঙিনৌকা পারাপারের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে মাঝিদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা বা খাজনা আদায় করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএর ট্যারিফ শিডিউলে ডিঙিনৌকা থেকে টাকা আদায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকলেও ইজারাদারদের নিজস্ব সিদ্ধান্তে এই অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এর ফলে নদী পারাপারে নিয়োজিত সাধারণ মাঝিরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং প্রতিবাদ করলে তাদের মারধরের শিকার হতে হয়।
নদীর এক পাড়ে পুরান ঢাকা এবং অন্য পাড়ে কেরানীগঞ্জ। দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন সহজে ও দ্রুত যাতায়াতের জন্য ডিঙিনৌকার ওপর ভরসা করেন। তবে গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে এই যাতায়াত ব্যবস্থার সাথে যুক্ত রয়েছে অবৈধ চাঁদাবাজির চক্র। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘাটগুলোর নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হলেও মাঝিদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এই চাঁদাবাজি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্রে জানা গেছে, বুড়িগঙ্গা নদীর ফতুল্লা থেকে জিনজিরা টিনপট্টিঘাট পর্যন্ত ১৭টি ঘাটের ১৫টিতে ডিঙিনৌকা চলাচল করে। ইজারাদাররা তাদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছেন। ধোপাঘাট থেকে যাত্রী নিলে দিতে হয় ১০০ টাকা, বাদামতলী থেকে তুললে ৫০ টাকা এবং দুই পাড় মিলে ১৫০ টাকা। এছাড়া নৌকা পাহারার নামে প্রতিদিন আরও ১৫ টাকা দিতে হয়।
ঘাটগুলোতে চলা এই অনিয়ম ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহলের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন যুক্তি। মাঝিদের অভিযোগ, মুখ খুললেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এই অপরাধের পরিধি দিন দিন বাড়ছে।
দীর্ঘদিন ধরে নৌকার মাঝি ও ইজারাদারেরা সমঝোতার ভিত্তিতে একটা ফি নির্ধারণ করে নৌকা চালান। আমার কাছে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো অভিযোগ আসেনি। - মোবারক হোসেন মজুমদার, যুগ্ম পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ
অপরদিকে কেরানীগঞ্জের ধোপাঘাটের ইজারাদার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা মেরাজ হোসেন দাবি করেছেন, লোকসান এড়াতেই তারা মাঝিদের সাথে আলোচনা করে খাজনার পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি করেছেন। তবে মাঝিদের ভাষ্য, প্রতিবাদ করার কোনো সুযোগ নেই কারণ ঘাটে নৌকা নামাতে গেলেও প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অনুমতি ও সুরক্ষা প্রয়োজন হয়।
বুড়িগঙ্গার খেয়াঘাটগুলোতে যাত্রী পারাপারকে কেন্দ্র করে চলা এই চাঁদাবাজি বন্ধে এবং নির্ধারিত ট্যারিফ শিডিউল বাস্তবায়নে প্রশাসনের কঠোর তদারকি জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ ও ব্যয়সাশ্রয়ী করতে অবিলম্বে এই অপ্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।