

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো দ্রুততম সময়ে শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনানুগ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় সারাদেশে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন আগে এবং একজনকে রবিবার গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা অপরাধ স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,
বিচার করবে আদালত। আমরা আইনানুগ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মাধ্যমে সহযোগিতা করব। আশা করি, বিচার বিভাগ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার যেভাবে দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করেছে, সেরকম একটি পদক্ষেপ নেবে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে বয়স নিশ্চিত করা হচ্ছে। নিহত অপ্রতিমের সঙ্গে তাদের নিয়মিত ওঠাবসা ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, অভিযুক্তরা অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছরের বড়। ঘটনার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন আসামি তুহিনের কাছ থেকে নিহত অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ এখন অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আসামিদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের বিষয়টিও তদারকি করছে।
আরও পড়ুন: আখাউড়া সীমান্তে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। আলামত সংগ্রহ এবং আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে খুব শীঘ্রই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হবে এবং আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।