

দক্ষিণ লেবাননের টায়ার জেলার দাবাল শহরে ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসনের অংশ হিসেবে ফেলে যাওয়া অবিস্ফোরিত অস্ত্রের ভয়াবহ বিস্ফোরণে এক শিশু মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির (এনএনএ) বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, আহত শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের ফলে সাধারণ মানুষের জীবন প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
চলমান এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে মানবিক বিপর্যয় চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে সংঘাতের তীব্রতার সময় ১২ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন। যদিও বর্তমানে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজারে দাঁড়িয়েছে, তবুও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক ও উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে ছড়িয়ে থাকা অবিস্ফোরিত গোলা ও অস্ত্রের কারণে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অবিলম্বে এসব এলাকা ঝুঁকিমুক্ত করার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইসরাইলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৮০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক। সংঘাতকবলিত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকাজ ও নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে, কারণ পরিত্যক্ত অস্ত্র ও গোলাগুলোর সঠিক নিষ্কাশন না হওয়ায় প্রতিনিয়ত নতুন দুর্ঘটনা ঘটছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে লেবাননের ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে ত্রাণ তৎপরতা ও চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা। তবে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে না আসা পর্যন্ত বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবিস্ফোরিত অস্ত্রের উৎস ও ঝুঁকি কমাতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।