

প্রবাসীর আর্থিক সহায়তায় পড়াশোনা ও কোচিং শেষ করে সরকারি চাকরি পাওয়ার সাত মাসের মাথায় স্বামীকে তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জান্নাতুল ফেরদৌস নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই এই দম্পতির মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রবাসী স্বামী সাইফুল ইসলাম।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উনকিলা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলামের সাথে পারিবারিকভাবে রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের বিয়ে হয়। বিয়ের চার মাস পর সাইফুল মালয়েশিয়ায় চলে যান এবং প্রবাসে থেকেই স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার যাবতীয় খরচ বহন করতে শুরু করেন। স্ত্রীকে ঢাকায় রেখে চার বছর ধরে কোচিং ও পড়াশোনার সমস্ত ব্যয়ভার একাই সামলেছেন তিনি।
সাইফুল ইসলাম জানান, স্ত্রীর আবদার রক্ষার্থে আমি লেখাপড়াসহ সব ধরনের সহযোগিতা করেছি। আমার উপার্জিত অর্থের অধিকাংশ তার পেছনে ব্যয় করে আজ আমি সম্পূর্ণ নিঃস্ব।
চাকরি পাওয়ার পর স্ত্রীর আচরণে সন্দেহ হলে গত ১ জুলাই কাউকে না জানিয়ে দেশে ফিরে সরাসরি অফিসে যান সাইফুল ইসলাম। কিন্তু সেখানে তার সাথে দূরত্ব বজায় রাখা হয়। পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে জানালেও সুরাহা না পেয়ে উল্টো স্ত্রীর পাঠানো তালাকের নোটিশ পান তিনি। সর্বস্বান্ত হয়ে এই ঘটনার আইনি প্রতিকার চেয়ে চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাইফুল।
অভিযোগের বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই ফয়সাল আহমেদ দাবি করেছেন, সাইফুল বিদেশে থাকাকালে স্ত্রীর খোঁজখবর রাখতেন না এবং সেই কারণেই জান্নাত তাকে তালাক দিয়েছেন। যদিও জান্নাতের পড়াশোনা, কোচিং ও ঢাকার জীবনযাত্রার সমস্ত খরচ সাইফুলের পাঠানো টাকাতেই নির্বাহিত হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন তার স্বজনরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী প্রবাসী আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। সমাজের নানা মহলে এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে এবং পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন ও আর্থিক আত্মত্যাগের বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে।