

খুলনা: খুলনার ইসলামনগর এলাকার একটি মেসে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন চালিয়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে হত্যার ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্রসহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিহত শিক্ষার্থীর বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় এই মামলাটি করেন। প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থীর আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে, যখন আজমুল মেসে মিল না দিয়ে খাবার খেয়েছেন এমন একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল করে তোলার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মেসের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় কিছু বখাটে মিলে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং একপর্যায়ে ভবনের চারতলার ছাদে নিয়ে গিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার সময় তার চুল কেটে ফেলার মতো পাশবিক আলামতও পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক আজমুলকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল এবং শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্যাতনের সময় একটি নম্বর থেকে ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল, যা বর্তমানে পুলিশ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে।
ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, মামলার এজাহারে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান চলছে।
ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, 'মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা সবাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
বর্তমানে নিহত আজমুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ছাত্রবাসগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা, যাতে এ ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।