

ঢাকা: পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রোববার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথসভায় এই আহ্বান জানানো হয়। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সভায় সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
রোববার বিকেল ৫টায় শুরু হওয়া এই যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া জ্যেষ্ঠ নেতারা দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে অঙ্গসংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ জোর দেন।
যৌথসভায় দলের শীর্ষ নেতারা তাদের বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এ সময় দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বাবস্থায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়,
দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র কঠোরহস্তে প্রতিহত করতে হবে। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে।
বৈঠকে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, দলের সাংগঠনিক কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে দ্রুত গতিশীলতা আনা। দ্বিতীয়ত, জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদার করা। বৈঠকে উপস্থিত কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ এলাকার বর্তমান রাজনৈতিক চিত্র তুলে ধরে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।
সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, আব্দুস সালাম আজাদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে খুব শীঘ্রই নতুন কিছু কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই যৌথসভাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।