

খুচরা পর্যায়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে বলে সরকারি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমান সরকারের মেয়াদে এটি দ্বিতীয়বারের মতো জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা। এর আগে গত কয়েক মাস ধরে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে দেশের বাজারেও দফায় দফায় দাম সমন্বয়ের কথা বলে আসছিল নীতিনির্ধারক মহল। সর্বশেষ এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয় মেটানোর স্বার্থেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। তবে জনজীবনে এর সম্ভাব্য চাপ কমাতে বিকল্প ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম আকস্মিকভাবে লিটারে ২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় দেশের পরিবহন খাত ও কৃষিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাস মালিক সমিতি এবং পণ্য পরিবহন খাতের সাথে জড়িতরা ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলতে পারেন। এর জেরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে সাধারণ জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতির অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
সর্বশেষ এই মূল্যবৃদ্ধির পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।