

ঢাকা: দেশে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে পতিত ও গুপ্ত শক্তিগুলো। শিগগিরই এই দুই অপশক্তি একত্রিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের বিশেষ সভায় দলীয় নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যদের এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা সরকারদলীয় ওই বিশেষ সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো অপরাধের সঙ্গে যারা যুক্ত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি বজায় রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি মহল দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা তৈরির নানা ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক পাহারা দিতে হবে। বিশেষ করে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়, সে বিষয়ে নিবিড় নজরদারি রাখতে হবে। প্রতিটি এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য দলীয় এমপি ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও করণীয় ঠিক করে দেওয়া হয়। নির্বাচন যখনই হোক না কেন, তার প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের দলীয় কোন্দল বা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা সহ্য করা হবে না। যোগ্য, ত্যাগী এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদেরই সামনের সারিতে নিয়ে আসতে হবে, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ম্যান্ডেট প্রকৃত অর্থেই প্রতিফলিত হয়। সভা শেষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি গণমাধ্যমকে জানান যে, স্থানীয় নির্বাচনে দল থেকে একক প্রার্থী দেওয়া হবে এবং সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের ম্যান্ডেট অক্ষুণ্ন রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন। অপরাধী বা চাঁদাবাজ যেই হোক না কেন, তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি খাত নিয়ে যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজব ছড়ানোর অপচেষ্টাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার জন্য সংসদ সদস্যদের সচেষ্ট থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসবে বলেও সভায় জানানো হয়।