

মানব মস্তিষ্কের জটিল কার্যক্রমের ফলে আমাদের ঘুমের সৃষ্টি হয় এবং একই সঙ্গে তৈরি হয় নানা রকমের স্বপ্ন। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে গেলেও মানুষের স্বপ্ন দেখার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ আজও পুরোপুরি উদ্ঘাটন করতে পারেননি। তবে ঘুমের বিভিন্ন পর্যায় এবং মস্তিষ্কের ভেতরে চলা জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বপ্ন দেখার বিষয়টি কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে।
আমাদের মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট ছন্দ মেনে কাজ করে, যা প্রায় ৫০ হাজার কোষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। মস্তিষ্কের এই ঘড়ি সদৃশ অঞ্চলটির নাম হাইপোথ্যালামাস। এটি মূলত দিনের আলো, খাওয়াদাওয়া এবং শরীরের তাপমাত্রার ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। নিয়মিত জীবনযাপন করলে মস্তিষ্কের এই ছন্দ বজায় থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম চলে আসে।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ঘুমের প্রয়োজনীয়তায় পরিবর্তন আসে। নবজাতক শিশুদের প্রতিদিন প্রায় ১৭ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হলেও বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের সময় কমতে থাকে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অন্তত পাঁচ ঘণ্টা ঘুমানো অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে পারে।
ঘুমের বেশ কয়েকটি নির্দিষ্ট পর্যায় রয়েছে এবং প্রতিটি পর্যায়ে মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটে। ঘুমের শুরুতে অথবা একদম শেষ পর্যায়ের হালকা ঘুমের সময় মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বপ্ন দেখে। এই সময়টিকে বলা হয় রেম ঘুম বা র্যাপিড আই মুভমেন্ট স্লিপ, যে সময়ে মানুষের চোখ দ্রুত নড়াচড়া করে।
প্রাচীনকাল থেকেই স্বপ্ন মানুষকে মুগ্ধ ও ভাবিয়ে তুলেছে। অনেক শিল্পী ও বিজ্ঞানী স্বপ্ন থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার দাবি করলেও, স্বপ্নের মধ্যে পাওয়া বহু দুর্দান্ত ধারণা ঘুম ভাঙার পর আর মনে থাকে না।
যদি কখনো রাতে সহজে ঘুম না আসে, তবে অন্ধকার ও নিরিবিলি পরিবেশে গিয়ে দুশ্চিন্তা দূর করে শরীরকে শিথিল করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ঘুমের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং সহজেই ঘুম চলে আসে।