

ঢাকা: কমিশনের স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে সহকর্মী ও বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চার উপপরিচালককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার পৃথক চারটি চিঠিতে এই নোটিশ দেয় কমিশন এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দাবি, কমিশনের অনিয়মের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করার কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে এই হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে অডিট আপত্তি রয়েছে এমন কয়েকজন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। এর প্রতিবাদে গত মার্চ মাসে কমিশনের ছয় উপপরিচালক উচ্চ আদালতে রিট করেন। এর জেরে রিটকারী কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দপ্তরে বদলি ও ওএসডি করা হয়। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে বদলি আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ আসলেও অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে কমিশন কার্যালয়ে হঠাৎ করেই উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহের কক্ষে যান বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী, ভাইস চেয়ারম্যান ও কমিশন সচিব। ওই সময় সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কক্ষ সিলগালাসহ ওএসডি ও বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
সর্বশেষ গতকাল এই চার কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁরা অফিস চলাকালে এবং অফিস সময়ের পর কমিশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী এবং স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে অফিসের সহকর্মী ও বহিরাগত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (কর্মচারী) চাকরি প্রবিধানমালা, ২০২২ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতাভুক্ত। নির্ধারিত সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব না দিলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই পুরো ঘটনাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে উপপরিচালক সনজিব কুমার সিংহ গণমাধ্যমকে জানান, নোটিশে যেসব কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর কোনো কিছুর সঙ্গেই তিনি বা তাঁর সহকর্মীরা যুক্ত নন। পদোন্নতিসংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করার পর থেকেই তাঁদের ওপর নানামুখী চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, এই বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, বিটিআরসির অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব এখন প্রশাসনিক ও আইনি উভয় পর্যায়েই জটিল আকার ধারণ করেছে। আদালতের স্থগিতাদেশ এবং পরবর্তীতে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির ঘটনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্ত কর্মকর্তারা লিখিত জবাব দাখিল না করলে কমিশন পরবর্তী পদক্ষেপে যেতে পারে, যা বিটিআরসির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।