

দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা ৫.২ লাখ শূন্য পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগ যৌথভাবে প্রতিটি দপ্তরের শূন্য পদের তালিকা, অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম এবং চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বচ্ছ ও ন্যায়ভিত্তিক প্রক্রিয়ায় এই বিশাল সংখ্যক জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ ৮৬ হাজার। এর মধ্যে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ বর্তমানে খালি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি শূন্য পদ রয়েছে ২০তম গ্রেডে ৮২ হাজার ২১৬টি এবং ১৬তম গ্রেডে ৭৯ হাজার ৮৬৮টি। এই শূন্যতা পূরণের মাধ্যমে সরকারি দপ্তরের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং যোগ্যতম প্রার্থী বাছাই করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে আমরা বিদ্যমান পরীক্ষা পদ্ধতি ও নম্বর বণ্টনের কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করছি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় ও আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন জানান, সরকারি দপ্তরের জনবল সংকট নিরসনে এই নিয়োগ জরুরি। তবে আর্থিক চাপ কমাতে ধাপে ধাপে নিয়োগ সম্পন্ন করা এবং প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা প্রয়োজন যাতে প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মের কোনো সুযোগ না থাকে।
বর্তমানে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর তা চূড়ান্ত করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। সরকার এখন প্রতিটি নিয়োগ কার্যক্রমের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে। তবে বিপুল সংখ্যক নিয়োগের এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সম্পন্ন হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।