

নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে পরিচালক সাহাদ নীলাম্বুরের নতুন মালায়ালি থ্রিলার সিনেমা 'প্রথমা দৃষ্টিয়া কুট্টাক্কার' (Pradhama Drishtiya Kuttakkar)। পুলিশের পদ্ধতিগত তদন্তের ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথাগত অপরাধীর পরিবর্তে পুলিশ সদস্যদের অপরাধ এবং তা ঢাকানোর মরিয়া চেষ্টা নিয়ে তৈরি হয়েছে এই টানটান উত্তেজনার গল্প।
সিনেমার গল্পে দেখা যায়, আলিনা চরিত্রে অভিনয় করা পার্বতী থিরুভোথু এবং তার সহকর্মী দাসান (সিদ্ধার্থ ভারতন), দিব্যা (উন্নিমায়া প্রসাদ) ও শ্রীনাথ (ম্যাথু থমাস) মিলে কেরালা পুলিশে একটি দল গঠন করেন। থানায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক আকস্মিক গুলিতে তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় কোন পুলিশ সদস্যের বন্দুক থেকে গুলি চলেছে তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সেই অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার নানা কৌশল।
পুলিশের অপরাধ লুকানোর এই রোমাঞ্চকর ইঁদুর-বিড়াল খেলায় অপরাধ দমন শাখা বা ক্রাইম ব্রাঞ্চের পোড় খাওয়া কর্মকর্তা হ্যারিস (বিজয়রাঘবন) হাজির হন সত্য উদঘাটন করতে।
১৫৮ মিনিটের এই চলচ্চিত্রে বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত মোড় ও প্লট টুইস্ট রয়েছে যা দর্শকদের এক মুহূর্তের জন্যেও দূরে সরিয়ে রাখতে দেয় না। চিত্রনাট্যকার সাহাদ নীলাম্বুর, পি এস সুব্রামানিয়াম এবং বিজেশ থোত্তিংগাল প্রতিটি পুলিশ চরিত্রের পেছনের গল্প অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সহানুভূতিশীল কারণে চাকরি পাওয়া আলিনার ভূমিকা এবং তার সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়টি গল্পে বাড়তি টান তৈরি করে।
প্রখ্যাত মালয়ালম সিনেমা দৃশ্যমের মতো এই ছবিতেও আইন ও নৈতিকতার প্রচলিত সংজ্ঞাকে নতুনভাবে প্রশ্ন করা হয়েছে। অপরাধী হয়েও আইনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার এই লড়াই দর্শকদের ভিন্ন এক অনুভূতির মুখোমুখি করে। জর্জকুট্টির মতো আলিনাও শেষ পর্যন্ত পার পেয়ে যেতে পারে কি না, তার উত্তর মিলবে এই টানটান উত্তেজনার সিনেমাটিতে।
আরও পড়ুন: দৃশ্যম ৩ সিনেমার দাপটে অজয় দেবগণের ক্যারিয়ারে নতুন ইতিহাস