

অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করতে পারে রাশিয়া এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ন্যাটোর ভূখণ্ডে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড তুস্ক এবং চেক প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মিশাল কুদেলকাসহ ইউরোপের শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানরা জানিয়েছেন, মস্কো সম্ভবত ন্যাটোর আর্টিকেল পাঁচের কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনও এই সতর্কবার্তাকে তথ্যপ্রমাণসমৃদ্ধ বলে অভিহিত করে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।
চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির মধ্যেই ইউরোপীয় গোয়েন্দাদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সম্প্রতি কিয়েভসহ রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বড় ধরনের বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড তুস্ক পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী মস্কো দেখাতে চাইছে যে ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষার নীতিটি যতটা শক্তিশালী বলে মনে করা হয়, বাস্তবে তা হয়তো তাত্ত্বিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন প্যারিসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে বাড়তে থাকা হুমকি মোকাবিলায় কৌশল নিয়ে আলোচনা করেছেন।
চেক প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা সংস্থা বিআইএসের প্রধান মিশাল কুদেলকা বলেছেন, বছরের মধ্যে নয়, বরং মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ন্যাটোর ভূখণ্ডে সীমিত অনুপ্রবেশ, ফলস-ফ্ল্যাগ কর্মকাণ্ড বা সাজানো উসকানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
লাতভিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা ভিডিডির মহাপরিচালক নরমুন্ডস মেজভিয়েটস জানিয়েছেন, তারা তাৎক্ষণিক কোনো হামলার সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত দেখছেন না, তবে ইউরোপে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য মস্কো যে প্রস্তুতি নিচ্ছে তা স্পষ্ট। এদিকে, এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাসচিব জোনাথন ভসেভিওভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক ছড়ানোর সমালোচনা করে সবাইকে শান্ত থাকার এবং ইউক্রেনকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই সম্ভাব্য হুমকি কেবল সামরিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বহুমুখী কৌশলগত প্রভাবে ভরপুর। তথ্যযুদ্ধ, সাইবার আক্রমণ এবং ভূরাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্য ফাটল ধরাতে চাইছে মস্কো। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলা নানা কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝে এই ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোকে নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে বাধ্য করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি রাশিয়া সত্যিই ন্যাটোর ভূখণ্ডে কোনো ছোটখাটো বা প্রতীকী হামলা চালায়, তবে তা বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের মোড় নিতে পারে। ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্রগুলো কীভাবে এই পরিস্থিতির জবাব দেয়, তার ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনের বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর ভবিষ্যৎ। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের প্রতিরক্ষা বাজেট পুনর্বিবেচনা করছে।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: এক পরিবারের ৭ জনসহ নিহত ৯