

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির এক মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ ৮ জনকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন। মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত দুর্নীতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে এই কঠোর সাজা প্রদান করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইফুল ইসলাম মিঠু রায়ের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন রাজউকের সাবেক সদস্য এস. ডি. ফয়েজ, এ. কে. এম. ওয়াহেদুল ইসলাম, এস. এম. জাফর উল্লাহ, এইচ. এম. জহুরুল হক, মো. রেজাউল করিম তরফদার, আম্বার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আজিজ এবং আশফাক আজিজ। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব খাটিয়ে পূর্বাচলে ২০ কাঠা প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই মামলা দায়ের করেছিল। দুদকের তৎকালীন উপ-সহকারী পরিচালক সিলভিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করার পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, রাজউকের সাবেক ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাদের প্রত্যেক ধারায় ৭ বছর করে মোট ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে আসামি শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকে একই ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদেরও ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিদের ওই ধারা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে শুধুমাত্র কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডই নয়, বরং দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্তের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিচারক শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজের নামে বরাদ্দকৃত সেক্টর-০১, রোড-৪০৫, প্লট নম্বর-০১১ ও ০১৩ এর দুটি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে তা সরাসরি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, আসামিদের হাজতবাস মূল দণ্ডাদেশ থেকে বাদ যাবে এবং উভয় ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে। মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে মোট ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়, যা আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এই রায়কে প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। সরকারি পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণের প্রবণতা রোধে এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও দুর্নীতির এই রায় ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষায় কঠোর বার্তা দেবে।