

ঢাকা: সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ালেও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব এখনো পড়েনি রাজধানীর গণপরিবহনে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন দাম কার্যকরের প্রথম দিনেও তাদের কাছ থেকে আগের নির্ধারিত ভাড়াই নেওয়া হচ্ছে। নতুন ভাড়ার কোনো চার্ট হাতে না পাওয়ায় পরিবহন শ্রমিকরা আপাতত পুরনো ভাড়াতেই বাস পরিচালনা করছেন।
এর আগে রবিবার জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন নির্ধারিত মূল্যে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা করা হয়েছে, যা সোমবার থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে এই দাম বৃদ্ধির দিনেও যাত্রীবাহী বাসে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
"মালিক পক্ষ থেকে এখনো নতুন কোনো ভাড়ার চার্ট দেয়নি। তাই আগের ভাড়াই নিচ্ছি। চার্ট ছাড়া বাড়তি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা আপত্তি করেন। নতুন ভাড়া নির্ধারণ হলে মালিক পক্ষ যেভাবে নির্দেশ দেবেন, সেভাবেই ভাড়া নেওয়া হবে।" - এহসান হক, মিডলাইন বাসের সুপারভাইজার
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের চাপ শেষ পর্যন্ত গণপরিবহনের ভাড়ায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি দেখার জন্য পরিবহন মালিক ও সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে হঠাৎ যাতায়াত খরচ বাড়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা। মোহাম্মদপুর থেকে বনশ্রী রুটে চলাচলকারী রমজান বাসের শিক্ষার্থী সাকিল সিকদার জানান, যাতায়াত খরচ বাড়লে তা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করবে। তবে প্রথম দিনে পুরনো ভাড়া নেওয়ায় সাময়িক স্বস্তি মিলেছে।
মালঞ্চ পরিবহনের সুপারভাইজার আমির হোসেন জানিয়েছেন, তারা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই যাত্রীদের কাছে বাড়তি ভাড়া চাইবেন। সুনির্দিষ্ট ভাড়ার চার্ট না থাকলে যাত্রীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় বলে তারা নিজেরাও দ্রুত একটি চার্ট চাচ্ছেন। নতুন ভাড়া নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুদক কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা বাড়ছে, কার্যকর হবে ২০২৮ সাল থেকে
বর্তমান পরিস্থিতিতে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা নির্দেশনা আসার প্রত্যাশা করছেন নগরবাসী। পরিবহন খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা জরুরি হয়ে পড়েছে।