

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও অভিনব কায়দায় অন্তত ৮ লাখ মৌমাছি চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় চলতি সপ্তাহে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন খামার থেকে ৪৪টি মৌচাক কলোনি চুরি হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার আর্থিক মূল্য হাজার হাজার ডলার। ক্ষতিকর পরজীবী ভ্যারোয়া মাইটের আক্রমণের মুখে পড়ে স্থানীয় মৌচাষিরা যখন দিশাহারা, ঠিক সেই মুহূর্তে এই চুরির ধাক্কা পুরো কৃষি খাতে চরম সংকট ডেকে এনেছে।
বর্তমানে অঞ্চলটিতে অ্যাভোকাডো ফলের মৌসুম চলায় পরাগায়ন চুক্তির অধীনে বিভিন্ন বাগানে এসব মৌবাক্স বসানো হয়েছিল। মৌমাছি হারিয়ে যাওয়ায় চাষিরা পরাগায়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক চুক্তি হারাচ্ছেন, অন্যদিকে ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন বাগানমালিকরা। এর আগে থেকেই ভ্যারোয়া মাইটের উপদ্রবে বিপর্যস্ত ছিল এই খামারগুলো।
স্থানীয় মৌচাষি টম বিডনার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, চুরির ধরন দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় এটি কোনো সাধারণ অপেশাদার অপরাধ নয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন,
প্রতিটি বাক্সে গড়ে অন্তত ২০ হাজার মৌমাছি থাকে এবং এখনো বহু স্থানে তল্লাশি চালানো বাকি রয়েছে। চোরেরা অত্যন্ত সুকৌশলে শুধু মৌমাছি থাকা অভ্যন্তরীণ ফ্রেমগুলো সরিয়ে নিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দূর থেকে যাতে কারও সন্দেহ না হয়, সেজন্য চোরেরা পুরো মৌবাক্স তুলে না নিয়ে শুধু মৌমাছি থাকা অভ্যন্তরীণ ফ্রেমগুলো সরিয়ে নিয়ে তাদের নিজস্ব বাক্সে ভরে নেয় এবং আগের বাক্সগুলো আগের জায়গায় রেখে যায়। এমনকি বাক্সে থাকা মধু তারা স্পর্শও করেনি। স্থানীয় পুলিশ ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাণিজ্যিক স্বার্থেই এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত অত্যন্ত দক্ষ কেউ এই অভিনব চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রতিপক্ষ কোনো খামারির দিকেও সন্দেহের তীর রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার কৃষি অর্থনীতিতে মৌমাছি ও পরাগায়ন বাণিজ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলন রক্ষা ও বাণিজ্যিক কৃষির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই খামারগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য। তবে একের পর এক সংকট ও এই চুরির ঘটনার ফলে দেশটির মৌচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বর্তমানে পুলিশ খোয়া যাওয়া মৌমাছি উদ্ধারে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে তদন্ত জোরদার করেছে। খামারিরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত মৌমাছিগুলো উদ্ধার করা না গেলে চলতি মৌসুমে অ্যাভোকাডোসহ অন্যান্য ফলের উৎপাদনে বড় ধস নামতে পারে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে এই সংঘবদ্ধ চক্রকে ধরতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।