
প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 13, 2026 ইং
ক্যাম্পাসে সহজ ও মার্জিত ক্যাজুয়াল লুকের কৌশল

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রতিদিন কী পরবেন, এই প্রশ্নে ভোগেন অনেক শিক্ষার্থী। ক্লাস, আড্ডা, লাইব্রেরি, সব মিলিয়ে সারাদিনের ব্যস্ত রুটিনে পোশাক হতে হয় আরামদায়ক, আবার দেখতেও চাই মার্জিত। ভালো খবর হলো, ক্যাম্পাস লুকের জন্য দামি বা জমকালো পোশাকের প্রয়োজন নেই। কয়েকটি সাধারণ পোশাক ঠিকমতো মিলিয়ে পরলেই তৈরি হয় পরিপাটি ক্যাজুয়াল স্টাইল।
ছেলেদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমন্বয় হলো ভালো ফিটিংয়ের টি-শার্ট বা পোলো শার্টের সঙ্গে চিনো প্যান্ট বা পরিষ্কার জিন্স। পোশাক ঢিলেঢালা না হয়ে শরীরের সঙ্গে মানানসই হলেই লুকটা বদলে যায়। সকালে তাড়াহুড়ো থাকলে একরঙা টি-শার্টের ওপরে একটা ওপেন চেক শার্ট পরে নিলেই তৈরি স্মার্ট লেয়ার। পায়ে পরিষ্কার স্নিকার্স বা ক্যাজুয়াল লোফার এই লুকের সঙ্গে ভালো যায়।
মেয়েদের ক্যাম্পাস লুকেও আরামই প্রধান। সুতির কুর্তি বা লং টপের সঙ্গে জিন্স বা পালাজ্জো পরলে সারাদিন স্বস্তিতে থাকা যায়। গরমের দিনে হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন, এতে দেখতেও সতেজ লাগে। ওড়না বা স্কার্ফ ঠিকমতো সাজিয়ে নিলে সাধারণ পোশাকেও আসে পরিপাটি ভাব। ব্যাগ হিসেবে মাঝারি আকারের টোট বা ব্যাকপ্যাক ব্যবহারিক ও স্টাইলিশ দুটোই।
ক্যাম্পাস স্টাইলে কয়েকটি বিষয় এড়িয়ে চলা ভালো। খুব জমকালো পার্টি পোশাক, অতিরিক্ত ভারী মেকআপ বা অস্বস্তিকর জুতো সারাদিনের ক্লাসে বিরক্তির কারণ হয়। পোশাক যেন চলাফেরায় বাধা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিচ্ছন্নতা। ইস্ত্রি করা পোশাক, পরিষ্কার জুতো আর গোছানো চুল সাধারণ পোশাককেও দেখায় যত্নশীল।
সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস ফ্যাশনের মূলমন্ত্র হলো সরলতা। নিজের স্বস্তিকে প্রাধান্য দিয়ে কয়েকটি বেসিক পোশাক ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরুন। একই জিন্সের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন টপ মিলিয়ে সপ্তাহজুড়ে নতুন লুক তৈরি করা সম্ভব। স্টাইল মানে দামি পোশাক নয়, স্টাইল মানে নিজেকে গুছিয়ে উপস্থাপন করা।
ঋতু অনুযায়ী ক্যাম্পাস লুকেও আনুন ছোট ছোট বদল। শীতের সকালে টি-শার্টের ওপরে একটা হালকা হুডি বা জ্যাকেট পরে নিলেই হয়। বর্ষায় ভেজা এড়াতে দ্রুত শুকায় এমন কাপড় বেছে নিন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জুতোর যত্ন। ক্যাম্পাসে অনেক হাঁটতে হয়, তাই আরামদায়ক জুতো বেছে নিন এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন। চুল গোছানো রাখুন, প্রয়োজনে ব্যাগে রাখুন ছোট চিরুনি। এই ছোট ছোট অভ্যাসই প্রতিদিনের লুকে আনে বড় পার্থক্য।
ক্লাস প্রেজেন্টেশন বা ভাইভার দিনে লুকটা একটু গোছানো হওয়া চাই। ছেলেরা সেদিন পোলো শার্টের বদলে ফরমাল শার্ট পরতে পারেন, সঙ্গে চিনো প্যান্ট। মেয়েরা কুর্তির সঙ্গে পরিপাটি ওড়না বা হালকা ব্লেজার নিতে পারেন। এই একদিনের জন্য ইস্ত্রি করা পোশাক আর পরিষ্কার জুতোই যথেষ্ট, নতুন কিছু কেনার দরকার নেই। আত্মবিশ্বাসী দেখানোর জন্য পোশাকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গোছানো থাকা। শিক্ষকের সামনে পরিপাটি উপস্থিতি ভালো ছাপ ফেলে, এটা সবাই জানেন।
বর্ষাকালে ক্যাম্পাসে পোশাক বাছাই আরেকটু ভাবনার। ভিজে যাওয়া এড়াতে দ্রুত শুকায় এমন কাপড় পরুন, ভারী জিন্সের বদলে হালকা ট্রাউজার ভালো। জুতোর ক্ষেত্রে পানিরোধী স্যান্ডেল বা রাবার সোলের জুতো রাখুন। ব্যাগে একটা ছোট ছাতা বা রেইনকোট রাখলে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভেজা এড়ানো যায়। ভেজা পোশাকে সারাদিন ক্লাস করা কষ্টের, তাই আগের রাতে আবহাওয়ার খবর দেখে পোশাক ঠিক করে রাখুন।
শীতের সকালে ক্যাম্পাসে যাওয়া কঠিন মনে হয়। টি-শার্টের ওপরে হুডি, তার ওপরে হালকা জ্যাকেট, এই দুই স্তরেই সকালের ঠান্ডা সামলানো যায়। ক্লাসে ঢুকে গরম লাগলে জ্যাকেট খুলে রাখা যায়। মেয়েরা শাল বা পাশমিনা নিতে পারেন, ক্লাসে বসে গায়ে জড়িয়ে নেওয়া যায়। শীতে গাঢ় রঙের পোশাক বেছে নিন, দেখতেও মানানসই লাগে।
শিক্ষার্থীদের বাজেট সীমিত, তাই বুদ্ধি করে কেনাই আসল। নিউ মার্কেট, বঙ্গবাজার বা অনলাইনে কম দামে ভালো বেসিক পোশাক পাওয়া যায়। একসঙ্গে অনেক না কিনে মাসে একটা দুটো করে মানসম্মত পোশাক কিনুন। সাদা-কালো টি-শার্ট, একটা ভালো জিন্স, একটা চেক শার্ট, এই তিনটে দিয়েই সপ্তাহ পার করা যায়। বন্ধুদের সঙ্গে পোশাক অদলবদল করেও নতুন লুক পাওয়া যায়, এতে খরচও বাঁচে।
গ্রুমিংয়ে খরচ না করেও পরিপাটি থাকা যায়। চুল নিয়মিত কাটুন, নখ পরিষ্কার রাখুন। ভারী পারফিউমের বদলে হালকা ডিওডোরেন্টই যথেষ্ট, ক্লাসরুমে কড়া গন্ধ বিরক্তিকর হতে পারে। মেয়েদের হালকা মেকআপই ক্যাম্পাসের জন্য উপযুক্ত, ভারী মেকআপে সারাদিন অস্বস্তি হয়। ছেলেরা দাড়ি রাখলে নিয়মিত ছাঁটুন, অগোছালো দাড়িতে লুক নষ্ট হয়।
ব্যাগ গোছানোও ক্যাম্পাস লুকের অংশ। মাঝারি ব্যাকপ্যাকে বই, খাতা, পানির বোতল, ছাতা আর টিফিন বক্স রাখুন। কাঁধে ঝোলানো ছোট ব্যাগে ফোন আর মানিব্যাগ রাখলে ভিড়ে নিরাপদ থাকে। ব্যাগের রঙ পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন, কালো বা বাদামি ব্যাগ প্রায় সব লুকের সঙ্গেই যায়।
লাইব্রেরিতে লম্বা সময় কাটানোর দিনে পোশাক হতে হবে সবচেয়ে আরামদায়ক। নরম সুতির টি-শার্ট আর ঢিলেঢালা পালাজ্জো বা ট্রাউজার পরুন। সঙ্গে একটা হালকা কার্ডিগান রাখুন, লাইব্রেরির এসি অনেকেরই ঠান্ডা লাগে। পায়ে নরম স্যান্ডেল বা স্লিপার পরলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা সহজ হয়।
বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার সময় লুকটা একটু গোছানো রাখুন। দলগত ছবিতে সবাই মিলে রঙের সামঞ্জস্য রাখলে ছবি সুন্দর আসে। অনুষ্ঠানের দিনে আগে থেকে ঠিক করে রাখুন কে কী পরবেন। সেলফির জন্য হালকা রঙের পোশাক ভালো, মুখ উজ্জ্বল দেখায়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা স্টোরি ২০২৬