

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রিটি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের কারখানা চত্বরে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রাতে সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হতাহতের এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রথম থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল রাতে, যখন কারখানার চত্বরে থাকা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং রাত থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রাথমিক অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকেই ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম জানান, রাতে বিস্ফোরণের পর আশুলিয়া থেকে মোট তিনজন রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়। এর মধ্যে দুজনকে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের সিনিয়র ম্যানেজার (অপারেশন) হারুন অর রশীদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর মোট ২৫ জন আহত ব্যক্তি তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হারুনুর রশিদ জানান, অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ নূর ইসলাম নামে এক ব্যক্তি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কারখানার অভ্যন্তরে বিপজ্জনক পদার্থ পরিবহনের নিয়মাবলী নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকেও তদারকি বাড়ানো হয়েছে।