
প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 13, 2026 ইং
মোবাইল ডেটা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে? জেনে নিন কারণ ও সমাধান

মাসের মাঝামাঝি আসার আগেই মোবাইল ডেটা শেষ হয়ে যাওয়া এখন অনেকেরই নিয়মিত অভিযোগ। অথচ সারাদিন ফোনে খুব বেশি কিছু করা হয় না বলে মনে হয়। আসলে কিছু অ্যাপ ও সেটিংস না চাইলেও পেছনে থেকে ডেটা খরচ করে। কোন অ্যাপ কত ডেটা নিচ্ছে, সেটা জানা থাকলে এই সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
প্রথম কাজ হলো ডেটা কোথায় যাচ্ছে সেটা খুঁজে বের করা। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সেটিংসে গিয়ে নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট অংশে ডেটা ব্যবহারের হিসাব পাওয়া যায়। সেখানে মোবাইল ডেটা নির্বাচন করলে প্রতিটি অ্যাপ আলাদাভাবে কত ডেটা খরচ করেছে, তার তালিকা দেখা যাবে। কোনো অচেনা বা কম ব্যবহৃত অ্যাপ যদি তালিকার উপরের দিকে থাকে, তাহলে বুঝবেন সেখানেই সমস্যা লুকিয়ে আছে।
আইফোন ব্যবহারকারীরা সেটিংসের মোবাইল ডেটা অংশে একই হিসাব পাবেন। নিচে স্ক্রল করলে প্রতিটি অ্যাপের পাশে খরচের পরিমাণ দেখা যায়। কোনো অ্যাপের পাশের সুইচ বন্ধ করে দিলে সেটি আর মোবাইল ডেটা ব্যবহার করতে পারবে না, শুধু ওয়াইফাইতে চলবে। খুব কম ব্যবহৃত অ্যাপের ডেটা এভাবে বন্ধ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অনেক অ্যাপ আপনি না চালালেও পেছনে থেকে ডেটা নেয়। অ্যান্ড্রয়েডে নির্দিষ্ট অ্যাপের আইকনে চাপ দিয়ে ধরে অ্যাপ ইনফোতে গিয়ে মোবাইল ডেটা ও ওয়াইফাই অপশনে ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করে দেওয়া যায়। এতে অ্যাপটি শুধু আপনি চালালেই ডেটা ব্যবহার করবে। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন শপিং অ্যাপের ক্ষেত্রে এই সেটিং বিশেষভাবে কার্যকর।
আইফোনে সেটিংসের জেনারেল অংশে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ রিফ্রেশ নামে একটি অপশন আছে। এটি বন্ধ করে দিলে বা শুধু ওয়াইফাইতে সীমাবদ্ধ করলে অ্যাপগুলো পেছনে ডেটা টানতে পারে না। চাইলে নির্দিষ্ট অ্যাপের জন্য আলাদাভাবে বন্ধ রাখা যায়। তবে মেসেজিং অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড রিফ্রেশ বন্ধ করলে নতুন মেসেজ আসতে দেরি হতে পারে, তাই প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো চালু রাখুন।
ডেটা শেষ হওয়ার আগেই সতর্কবার্তা পেতে চাইলে অ্যান্ড্রয়েডে ডেটা সতর্কতা ও সীমা নির্ধারণ করা যায়। ডেটা ব্যবহারের সেটিংসে গিয়ে সতর্কতার পরিমাণ ঠিক করে দিন। সীমা পার হলে ফোন নিজেই মোবাইল ডেটা বন্ধ করে দেবে, ফলে অপ্রত্যাশিত খরচ এড়ানো যায়। পরিবারের ছোটদের ফোনে এই ফিচার চালু রাখলে অপ্রয়োজনীয় ডেটা খরচ অনেক কমে।
ফোনে ডেটা সেভার মোড চালু রাখলে সব অ্যাপ মিলিয়ে পেছনের ডেটা ব্যবহার কমে যায়। অ্যান্ড্রয়েডের নেটওয়ার্ক সেটিংসে ডেটা সেভার অপশনটি পাবেন। এটি চালু থাকলে ছবি ও ভিডিও কম মানে লোড হয়, ফলে প্যাক বেশিদিন টেকে। প্রয়োজনে নির্দিষ্ট অ্যাপকে এই সীমার বাইরে রাখার সুযোগও আছে, যাতে জরুরি অ্যাপের কাজে ব্যাঘাত না ঘটে।
ভিডিও দেখা ডেটা শেষ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ। ইউটিউবের সেটিংসে গিয়ে ভিডিওর মান ডেটা সেভারে রাখুন। ফেসবুকের সেটিংসেও মিডিয়া অংশে ভিডিওর মান কমিয়ে দেওয়া যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করার সময় ভিডিওর অটো-প্লে বন্ধ করে দিন বা শুধু ওয়াইফাইতে সীমাবদ্ধ করুন। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সেটিংসে এই অপশন পাবেন। একটি ভিডিও না দেখে স্ক্রল করে পার হয়ে গেলেও অটো-প্লে চালু থাকলে ডেটা খরচ হয়।
অ্যাপ স্টোরের অটো আপডেটও নীরবে অনেক ডেটা খায়। প্লে স্টোরের সেটিংসে গিয়ে অটো আপডেট শুধু ওয়াইফাইতে সীমাবদ্ধ করে দিন। আইফোনে সেটিংসের অ্যাপ স্টোর অংশে মোবাইল ডেটা ব্যবহার বন্ধ করে দিন। বড় গেম বা অ্যাপের আপডেট সবসময় ওয়াইফাইতেই নিন। আপডেট জমে থাকলে সপ্তাহে একদিন ওয়াইফাইতে বসে সব আপডেট একসঙ্গে করে নিন।
হোয়াটসঅ্যাপে ছবি ও ভিডিওর অটো ডাউনলোড বন্ধ রাখলে অনেক ডেটা বাঁচে। সেটিংসের স্টোরেজ ও ডেটা অংশে গিয়ে মোবাইল ডেটায় অটো ডাউনলোডের সব টিক তুলে দিন। গ্রুপে আসা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও আর নিজে থেকে নামবে না। শুধু যেটা দরকার, সেটাতে চাপ দিলেই ডাউনলোড হবে।
নিয়মিত যে ম্যাপ বা গান ব্যবহার করেন, সেগুলো ওয়াইফাইতে থাকতেই অফলাইনে নামিয়ে রাখুন। গুগল ম্যাপে নিজের এলাকার ম্যাপ অফলাইনে সংরক্ষণ করা যায়। এতে বাইরে গিয়ে নেভিগেশনে আর ডেটা লাগে না। পছন্দের গান বা পডকাস্টও ওয়াইফাইতে নামিয়ে রাখলে পথে ডেটা বাঁচে।
অন্যের সঙ্গে হটস্পট শেয়ার করলে ডেটা খুব দ্রুত শেষ হয়। হটস্পট চালু রাখলে কে যুক্ত আছে খেয়াল রাখুন এবং কাজ শেষে বন্ধ করে দিন। কিছু ফোনে হটস্পটের জন্য আলাদা ডেটা সীমা দেওয়ার সুবিধা আছে। অচেনা কাউকে হটস্পটের পাসওয়ার্ড না দেওয়াই ভালো।
মাসের শুরুতে নিজের ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ডেটা প্যাক কেনাই ভালো। অপারেটরের নিজস্ব অ্যাপে দৈনিক ডেটা খরচের হিসাব রাখা যায়। রাতে ঘুমানোর সময় মোবাইল ডেটা বন্ধ রাখার অভ্যাসও ডেটা বাঁচাতে সাহায্য করে। এই ছোট ছোট সেটিংস মিলিয়ে মাস শেষে বড় সাশ্রয় হয়। একবার সেটিংসগুলো ঠিক করে নিলে পরে আর ভাবতে হয় না।
ডুয়াল সিমের ফোনে কোন সিম থেকে ডেটা যাবে, সেটা ঠিক করে দিন। সেটিংসের সিম অংশে মোবাইল ডেটার জন্য পছন্দের সিম নির্বাচন করুন। ভুল সিম থেকে ডেটা গেলে প্যাক দ্রুত শেষ হতে পারে। ভ্রমণের সময় রোমিং চালু থাকলে ডেটা খরচ বাড়ে, তাই প্রয়োজনে রোমিং বন্ধ রাখুন।
গান বা ভিডিও স্ট্রিমিং অ্যাপে ডাউনলোডের মানও ঠিক করে নিন। অনেক অ্যাপে অডিও ও ভিডিওর মান আলাদাভাবে কমানো যায়। শুধু শোনার জন্য অডিও মোড ব্যবহার করলে ভিডিওর তুলনায় অনেক কম ডেটা লাগে। পডকাস্ট বা গান ওয়াইফাইতে নামিয়ে রাখলে পথে স্ট্রিমিংয়ের দরকার হয় না।
মাসে একবার ডেটা ব্যবহারের তালিকা দেখে নেওয়ার অভ্যাস করুন। কোন অ্যাপের খরচ বাড়ছে, সেটা চোখে পড়বে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করে দিলে জায়গা বাঁচার পাশাপাশি ডেটাও বাঁচে। এই নিয়মিত পর্যালোচনা ডেটা প্যাকের পূর্ণ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা স্টোরি ২০২৬