
প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 13, 2026 ইং
জিমেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে যা করবেন

জিমেইল অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে যাওয়া খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। এই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ফোনের ব্যাকআপ, ছবি, পরিচিতির তালিকা অনেক কিছুই যুক্ত থাকে। তাই পাসওয়ার্ড মনে না পড়লে আতঙ্কিত না হয়ে ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা উচিত। গুগলের নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করলেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া যায়।
প্রথমে জিমেইলের লগইন পেজে গিয়ে নিজের ইমেইল ঠিকানা দিন। পাসওয়ার্ড চাইলে "পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন" বা "Forgot password" অপশনে চাপ দিন। এরপর গুগল আপনার পরিচয় যাচাই করার জন্য কয়েকটি প্রশ্ন করবে। আগে যে ফোন নম্বর বা বিকল্প ইমেইল দেওয়া ছিল, সেখানে যাচাইকরণ কোড পাঠানো হবে।
কোডটি ঠিকভাবে দিলে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করার সুযোগ পাবেন। নতুন পাসওয়ার্ড এমন দিন, যা আগে কখনো ব্যবহার করেননি। পাসওয়ার্ডে বড় হাতের অক্ষর, ছোট হাতের অক্ষর ও সংখ্যা মিলিয়ে দিলে তা শক্তিশালী হয়। পাসওয়ার্ডটি কোথাও নিরাপদে লিখে রাখুন, যাতে আবার ভুলে না যান।
পুনরুদ্ধারের সময় গুগল কখনো কখনো আগে মনে থাকা পুরনো পাসওয়ার্ড জানতে চায়। মনে থাকলে সেটি দিন, না মনে থাকলে এড়িয়ে যান। এরপর গুগল আপনার ফোনে একটি প্রম্পট পাঠাতে পারে, যেখানে "হ্যাঁ, আমি চেষ্টা করছি" চাপ দিতে হয়। এই পদ্ধতিতে ফোন হাতের কাছে থাকলে প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়।
যদি পুনরুদ্ধারের ফোন নম্বর বা ইমেইল আর ব্যবহার না করেন, তাহলে "অন্য উপায় চেষ্টা করুন" অপশনে যান। গুগল তখন অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে আরও কিছু প্রশ্ন করবে, যেমন অ্যাকাউন্ট কবে খোলা হয়েছিল বা কোন কোন সেবা ব্যবহার করতেন। সঠিক উত্তর দিতে পারলে কিছু যাচাইকরণের পর অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়া যায়। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে, তাই ধৈর্য ধরুন।
সম্ভব হলে নিজের ফোন বা বাড়ির ইন্টারনেট থেকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করুন। গুগল আগে ব্যবহৃত ডিভাইস ও পরিচিত ইন্টারনেট সংযোগ চিনতে পারে। অচেনা ডিভাইস বা নতুন জায়গা থেকে চেষ্টা করলে গুগল বেশি সতর্ক হয় এবং অতিরিক্ত যাচাই চাইতে পারে। তাই নিজের নিয়মিত ডিভাইস ব্যবহার করাই ভালো।
অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার পরপরই নিরাপত্তা জোরদার করা জরুরি। গুগল অ্যাকাউন্টের সেটিংসে গিয়ে দুই ধাপে যাচাইকরণ চালু করে দিন। এতে পাসওয়ার্ড কেউ জেনে গেলেও ফোনের অনুমতি ছাড়া অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না। যাচাইকরণের জন্য অথেনটিকেটর অ্যাপ বা ফোনে আসা প্রম্পট ব্যবহার করা যায়।
পুনরুদ্ধারের ফোন নম্বর ও ইমেইল হালনাগাদ আছে কিনা, তাও দেখে নিন। পুরনো নম্বর বদলে গেলে নতুনটি যোগ করুন। অ্যাকাউন্টের সিকিউরিটি চেকআপ চালিয়ে দেখুন কোথাও দুর্বলতা আছে কিনা। সেখানে তৃতীয় পক্ষের কোনো সন্দেহজনক অ্যাপ অ্যাকাউন্টে যুক্ত আছে কিনা, তা দেখা যায়। অচেনা অ্যাপের অনুমতি থাকলে সরিয়ে দিন।
শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বানানোর সহজ উপায় হলো পাসফ্রেজ ব্যবহার করা। পছন্দের একটি বাক্য নিয়ে তার মধ্যে সংখ্যা ও চিহ্ন মিশিয়ে দিন। যেমন, প্রিয় কোনো লাইন মনে রেখে সেটিকে পাসওয়ার্ডে রূপ দিন। এমন পাসওয়ার্ড মনে রাখা সহজ এবং অনুমান করা কঠিন। একই পাসওয়ার্ড একাধিক জায়গায় ব্যবহার করবেন না।
মনে রাখবেন, গুগল কখনো ফোন করে বা মেসেজে পাসওয়ার্ড চায় না। অ্যাকাউন্ট ফিরিয়ে দেওয়ার নামে কেউ টাকা চাইলে বুঝবেন সেটি প্রতারণা। শুধু গুগলের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ দিয়েই পুনরুদ্ধারের কাজ করুন। সার্চে পাওয়া অচেনা ওয়েবসাইটে ইমেইল ও পাসওয়ার্ড দেবেন না।
যদি মনে হয় কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে ঢুকে পড়েছে, তাহলে পাসওয়ার্ড বদলের পাশাপাশি সব ডিভাইস থেকে সাইন আউট করে দিন। গুগল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা অংশে সম্প্রতি কোথা থেকে লগইন হয়েছে, তার তালিকা দেখা যায়। অচেনা ডিভাইস বা জায়গা দেখলে সেটি সরিয়ে দিন। এরপর ইমেইলে আসা গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো একবার দেখে নিন।
ভবিষ্যতে এমন সমস্যা এড়াতে পাসওয়ার্ড মনে রাখার নিরাপদ ব্যবস্থা নিন। গুগল ক্রোমের নিজস্ব পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ ফিচার কাজে লাগতে পারে। তবে অন্যের ডিভাইসে কখনো পাসওয়ার্ড সেভ করবেন না। নিয়মিত পুনরুদ্ধারের তথ্য হালনাগাদ রাখলে অ্যাকাউন্ট হারানোর ভয় অনেকটাই কমে যায়। পরিচিত কারও সাহায্য লাগলে শুধু বিশ্বস্ত মানুষের কাছেই নিন। অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে কখনো তাড়াহুড়ো করে ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না।
পাসওয়ার্ডের বদলে পাসকি ব্যবহারের সুবিধাও এখন পাওয়া যায়। পাসকিতে ফোনের আঙুলের ছাপ বা মুখের স্বীকৃতি দিয়ে লগইন করা যায়, আলাদা পাসওয়ার্ড মনে রাখতে হয় না। গুগল অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা সেটিংসে পাসকি যোগ করার অপশন আছে। এটি প্রতারণামূলক সাইট থেকেও বেশি সুরক্ষা দেয়।
দুই ধাপে যাচাইকরণ চালু করলে ব্যাকআপ কোড সংরক্ষণ করে রাখুন। ফোন হারিয়ে গেলে বা নম্বর বদলে গেলে এই কোড দিয়ে অ্যাকাউন্টে ঢোকা যায়। কোডগুলো কাগজে লিখে নিরাপদ জায়গায় রাখুন, ফোনের ভেতরেই রাখবেন না। প্রয়োজনের সময় এই কোডই ভরসা।
মাঝে মাঝে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা অংশে গিয়ে দেখুন কোন কোন ডিভাইসে লগইন আছে। অচেনা ডিভাইস দেখলে সেখান থেকে সাইন আউট করে পাসওয়ার্ড বদলে দিন। একই জায়গা থেকে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা কার্যকলাপের তালিকাও দেখা যায়। নিয়মিত এই পরীক্ষা অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখে।
অ্যাকাউন্টের পুনরুদ্ধার ইমেইল হিসেবে এমন ঠিকানা ব্যবহার করুন, যেটিতে আপনি নিয়মিত ঢুকতে পারেন। এই ইমেইলে গুগল প্রয়োজনে সতর্কবার্তা পাঠায়। দুটি অ্যাকাউন্ট থাকলে একটিকে অন্যটির পুনরুদ্ধার ইমেইল হিসেবে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে একটি আটকে গেলে অন্যটি দিয়ে ফেরত পাওয়া যায়।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা স্টোরি ২০২৬