
প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 14, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 13, 2026 ইং
মোবাইলে ভুয়া অ্যাপ চিনবেন যেভাবে

প্লে স্টোরে লাখ লাখ অ্যাপের ভিড়ে ভুয়া ও ক্ষতিকর অ্যাপও ঢুকে পড়ে মাঝে মাঝে। দেখতে আসল অ্যাপের মতো হলেও এগুলো ফোনের তথ্য চুরি করতে পারে বা অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন দেখিয়ে বিরক্ত করে। তাই যেকোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে একটু যাচাই করে নেওয়া জরুরি।
প্রথমে দেখুন অ্যাপটির নির্মাতার নাম ঠিক আছে কিনা। জনপ্রিয় অ্যাপের নামে অনেক ভুয়া অ্যাপ তৈরি হয়, কিন্তু নির্মাতার নামে অদ্ভুত বানান বা অচেনা প্রতিষ্ঠানের নাম থাকে। ডাউনলোড সংখ্যা ও রেটিংও দেখে নিন। লাখ লাখ ডাউনলোড থাকা অ্যাপের বদলে মাত্র কয়েকশ ডাউনলোডের অ্যাপ হলে সতর্ক হোন।
অ্যাপের পেজে "অ্যাবাউট দিস অ্যাপ" অংশে নির্মাতার ওয়েবসাইট ও যোগাযোগের ঠিকানা দেওয়া থাকে। সেখানে গিয়ে দেখুন প্রতিষ্ঠানটি আসল কিনা। ডেটা সেফটি অংশে অ্যাপটি কী কী তথ্য সংগ্রহ করে, তার তালিকাও পাবেন। যে অ্যাপ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তথ্য নেয়, সেটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
ব্যবহারকারীদের রিভিউ পড়াও ভালো অভ্যাস। অনেকেই ভুয়া অ্যাপ নিয়ে অভিযোগ লিখে রাখেন। তবে শুধু পাঁচ তারার রেটিং দেখেই নিশ্চিন্ত হবেন না। রিভিউগুলোতে একই ধরনের ছোট ছোট মন্তব্য বারবার থাকলে সন্দেহ করুন। বিস্তারিত ও নির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা লেখা রিভিউ বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়।
অ্যাপটি কী কী অনুমতি চাইছে, সেটাও খেয়াল করুন। একটি সাধারণ টর্চলাইট অ্যাপ যদি আপনার পরিচিতির তালিকা বা মেসেজ পড়ার অনুমতি চায়, তাহলে বুঝবেন কিছু একটা গোলমাল আছে। ক্যামেরা অ্যাপের ক্যামেরার অনুমতি লাগা স্বাভাবিক, কিন্তু সেটি যদি কল লগ দেখতে চায়, তাহলে প্রশ্ন তুলুন।
ইনস্টলের সময় চাওয়া অনুমতি পরে বদলানোও যায়। ফোনের সেটিংসে অ্যাপস অংশে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপ নির্বাচন করে অনুমতি দেখুন। যেটি দরকার নেই, সেটি বন্ধ করে দিন। অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণে "শুধু এইবার" অনুমতি দেওয়ার সুযোগ আছে, সংবেদনশীল অনুমতির ক্ষেত্রে সেটি ব্যবহার করুন।
অ্যাপ ইনস্টলের পর ফোন অস্বাভাবিক গরম হলে, ব্যাটারি দ্রুত শেষ হলে বা না চাইতেও বিজ্ঞাপন আসতে থাকলে সন্দেহ করুন। এমন হলে সেটিংস থেকে অ্যাপটি আনইনস্টল করে দিন। আনইনস্টলের পর ফোনের আচরণ স্বাভাবিক হয়ে এলে বুঝবেন সন্দেহ ঠিক ছিল। প্লে স্টোরের "প্লে প্রোটেক্ট" ফিচার চালু রাখলে ক্ষতিকর অ্যাপ শনাক্ত করতে সুবিধা হয়। প্লে স্টোরের সেটিংসে গিয়ে প্লে প্রোটেক্টের স্ক্যান চালু আছে কিনা দেখে নিন।
প্লে স্টোরের বাইরে থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা, অর্থাৎ এপিকে ফাইল নামানো, বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ফাইলে ক্ষতিকর কোড মেশানো থাকতে পারে। খুব প্রয়োজন না হলে এই পথ এড়িয়ে চলুন। করতেই হলে শুধু নির্মাতার নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে নিন এবং কাজ শেষে অচেনা উৎস থেকে ইনস্টলের অনুমতি আবার বন্ধ করে দিন।
মনে রাখবেন, ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অ্যাপ সবসময় অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া লিংক থেকে ডাউনলোড করুন। হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারে পাঠানো লিংকে চাপ দিয়ে কখনো অ্যাপ ইনস্টল করবেন না। ব্যাংকের নামে আসা মেসেজের লিংকও যাচাই না করে খুলবেন না। সন্দেহ হলে ব্যাংকের হেল্পলাইনে ফোন করে জেনে নিন।
ভুয়া অ্যাপ অনেক সময় বিনা মূল্যে দামি সুবিধার লোভ দেখায়। যেমন, টাকা দিয়ে কেনা গেম ফ্রিতে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এই ধরনের প্রলোভনে পা দেবেন না। আসল নির্মাতারা কখনো এভাবে অ্যাপ বিতরণ করে না। সন্দেহজনক অ্যাপ প্লে স্টোরে রিপোর্ট করার অপশনও আছে, যাতে অন্য ব্যবহারকারীরা সতর্ক হতে পারে।
ভুল করে ক্ষতিকর অ্যাপ ইনস্টল করে ফেললে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। প্রথমে অ্যাপটি আনইনস্টল করুন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন, বিশেষ করে ব্যাংকিং ও ইমেইলের। ব্যাংক স্টেটমেন্টে অচেনা লেনদেন আছে কিনা দেখুন। প্রয়োজনে ব্যাংককে জানিয়ে কার্ড সাময়িকভাবে বন্ধ রাখুন।
ফোনে আগে থেকে ইনস্টল থাকা অ্যাপগুলোও মাঝে মাঝে যাচাই করুন। দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা অ্যাপ আনইনস্টল করে দিন। এতে ফোনের জায়গা বাঁচে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিও কমে। অ্যাপের অনুমতি সেটিংসে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করে দিলে ব্যক্তিগত তথ্য আরও নিরাপদ থাকে। সতর্ক ব্যবহারকারীই নিরাপদ ব্যবহারকারী। নতুন অ্যাপ ইনস্টলের আগে সবসময় এক মিনিট সময় নিয়ে যাচাই করে নিন।
অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণে দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা অ্যাপের অনুমতি নিজে থেকে বাতিল হয়ে যায়। এই সুবিধা চালু আছে কিনা অ্যাপের অনুমতি সেটিংসে দেখে নিন। এতে পুরনো অ্যাপ পেছনে থেকে তথ্য নিতে পারে না।
অ্যাপের পেজে কবে শেষ আপডেট এসেছে, সেটাও দেখুন। নিয়মিত আপডেট পাওয়া অ্যাপ সাধারণত বেশি নির্ভরযোগ্য। বহুদিন আপডেট না পাওয়া অ্যাপ এড়িয়ে চলুন, কারণ নিরাপত্তার দুর্বলতা ঠিক করা হয় না। আপডেটের বিবরণে কী বদলেছে, তা পড়েও ধারণা পাওয়া যায়।
বাচ্চাদের ফোনে শুধু পরিচিত ও প্রয়োজনীয় অ্যাপ রাখুন। প্লে স্টোরে অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ চালু করলে বয়সের অনুপযুক্ত অ্যাপ ডাউনলোড আটকানো যায়। বাচ্চাকে শেখান, অচেনা লিংক থেকে কখনো অ্যাপ ইনস্টল না করতে। পরিবারের সবার ফোনেই এই সতর্কতা জরুরি।
অ্যাপ ডাউনলোডের আগে একটু সময় নিয়ে ভাবুন, এই অ্যাপটি আসলেই দরকার কিনা। অনেক সময় একই কাজ ফোনের নিজস্ব ফিচার দিয়েই করা যায়। কম অ্যাপ মানে কম ঝুঁকি, বেশি জায়গা ও ভালো ব্যাটারি। প্রয়োজনীয় অ্যাপের তালিকা ছোট রাখাই নিরাপদ অভ্যাস।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা স্টোরি ২০২৬