
প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 13, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 13, 2026 ইং
গর্ভাবস্থায় ত্বকের যত্নে নিরাপদ ঘরোয়া উপায়

গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনে অনেকের ত্বকে নানা বদল দেখা যায়। কারও ত্বকে দাগ পড়ে, কারও ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। এই সময়ে ত্বকের যত্নে কড়া রাসায়নিকযুক্ত পণ্য এড়িয়ে ঘরোয়া ও মৃদু উপায় বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
গর্ভাবস্থায় ত্বকে যেসব বদল সাধারণত দেখা যায়, সেগুলো জেনে রাখলে অযথা ভয় পাবেন না। অনেকের গালে বা কপালে হালকা বাদামি দাগ পড়ে, স্তনের চারপাশের ত্বকের রং গাঢ় হয়। পেট বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে টান পড়ে সরু রেখা দেখা দিতে পারে। কারও ত্বক আগের চেয়ে তৈলাক্ত হয়, কারও হয় শুষ্ক। এগুলোর বেশিরভাগই হরমোনের প্রভাবে হয় এবং সন্তান জন্মের পর ধীরে ধীরে কমে আসে। তবে কোনো বদল নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
প্রথম নিয়ম হলো ত্বক পরিষ্কার ও আর্দ্র রাখা। দিনে দুবার হালকা ফেসওয়াশ বা বেসন দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। গোসলের পর শরীরে নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল মাখুন, এতে ত্বক নরম থাকে। শীতকালে গ্লিসারিন ও গোলাপজলের মিশ্রণও ভালো কাজ করে। ত্বকে যেকোনো নতুন কিছু ব্যবহারের আগে হাতের একটু জায়গায় পরীক্ষা করে নিন।
পেটের ত্বকের টান নিয়ে অনেক মায়েরই প্রশ্ন থাকে। সত্যি কথা হলো, ত্বকের এই রেখা পুরোপুরি ঠেকানোর নিশ্চিত উপায় নেই। তবে ত্বক আর্দ্র রাখলে চুলকানি ও অস্বস্তি কমে। গোসলের পর নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা শিয়া বাটার জাতীয় ময়েশ্চারাইজার হালকা হাতে মালিশ করুন। খুব জোরে ঘষবেন না। ওজন ধীরে ও স্বাভাবিকভাবে বাড়লে ত্বকের ওপর চাপ কম পড়ে, তাই খাওয়াদাওয়ায় ভারসাম্য রাখুন।
রোদ থেকে ত্বককে বাঁচান। বাইরে বের হওয়ার আগে ছাতা বা ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকুন। দুপুরের কড়া রোদে বের হওয়া এড়িয়ে চলুন। গরমে ঘাম জমে ত্বকে চুলকানি হতে পারে, তাই ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। ঘাম মুছে ত্বক শুকনো রাখুন।
ঘরোয়া উপায়ে ত্বকের যত্ন নিতে চাইলে শসার রস, টক দই বা মধু মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। এগুলো ত্বককে সতেজ রাখে। তবে মনে রাখবেন, ঘরোয়া হলেও ত্বকে জ্বালা বা লালচে ভাব দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ধুয়ে ফেলুন এবং আর ব্যবহার করবেন না।
পেটের ত্বকে টান পড়ে চুলকানি হতে পারে। এই সময় নখ দিয়ে না খুঁটে ঠান্ডা ভেজা কাপড় চেপে ধরুন বা তেল মালিশ করুন। পানি পর্যাপ্ত পরিমাণে পান করুন, কারণ ভেতর থেকে আর্দ্রতাও ত্বকের জন্য জরুরি।
এই সময় চুল ও নখেরও যত্ন নিন। অনেকের চুল ঘন ও উজ্জ্বল দেখায়, আবার কারও চুল পড়া বাড়ে। চুলে কড়া কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট বা রং করা এড়িয়ে চলুন। সপ্তাহে দু-তিনবার মাথায় তেল মালিশ করুন ও মৃদু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। নখ ভেঙে গেলে ছোট করে কেটে রাখুন। পায়ের নখ কাটতে অসুবিধা হলে পরিবারের কারও সাহায্য নিন।
বাজারের পণ্য কেনার সময় সতর্ক থাকুন। ত্বক ফর্সা করার দাবি করা ক্রিম বা কড়া কেমিক্যালযুক্ত পণ্য এই সময়ে এড়িয়ে চলাই ভালো। সুগন্ধি বেশি এমন পণ্যেও অনেকের ত্বকে জ্বালা হয়। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে কানের পেছনে বা হাতের কবজিতে অল্প লাগিয়ে পরীক্ষা করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ মেশানো কোনো ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
সুগন্ধিযুক্ত বা শক্তিশালী রাসায়নিকযুক্ত ক্রিম, সাবান এড়িয়ে চলুন। পণ্য কেনার সময় উপাদানের তালিকা দেখে নিন। ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক ফুসকুড়ি, ফোলা বা দাগ দেখা দিলে নিজে নিজে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ভালো ঘুম ও মানসিক প্রশান্তি ত্বকের জন্যও জরুরি। ঘুম কম হলে চোখের নিচে কালি পড়ে, ত্বক নিস্তেজ দেখায়। রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। দিনের বেলা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা এড়িয়ে প্রিয় কাজে মন দিন। হালকা হাঁটা বা গভীর শ্বাসের ব্যায়াম মন শান্ত রাখে। মনে রাখবেন, সুস্থ মা মানেই সুস্থ ত্বকের ভিত্তি।
ত্বকের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে পুষ্টি জোগানোও জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং তাজা ফলমূল খান, এতে ত্বক ভেতর থেকে সতেজ থাকে। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধোয়া এড়িয়ে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। তোয়ালে দিয়ে মুখ ঘষে মোছার বদলে হালকা চেপে পানি শুকিয়ে নিন। মেকআপ করতে চাইলে হালকা ও মৃদু পণ্য বেছে নিন এবং রাতে ঘুমানোর আগে অবশ্যই মুখ পরিষ্কার করে নিন।
গোসলের অভ্যাস ত্বকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। খুব গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল করলে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমে যায়। কুসুম গরম পানিতে অল্প সময়ে গোসল সারুন। মৃদু সাবান বা বডি ওয়াশ ব্যবহার করুন। গোসলের পর তিন মিনিটের মধ্যে শরীরে ময়েশ্চারাইজার লাগান, তখন ত্বক সবচেয়ে ভালো আর্দ্রতা ধরে রাখে।
ঠোঁট ও পায়ের গোড়ালির যত্ন নিন। ঠোঁট শুকিয়ে ফাটলে লিপ বাম বা নারকেল তেল লাগান। পায়ের গোড়ালি ফাটা রোধে রাতে ঘুমানোর আগে তেল মালিশ করে মোজা পরে ঘুমান। নখের চারপাশের ত্বক শুকিয়ে গেলে অলিভ অয়েল লাগান। এই ছোট যত্নগুলো নিয়মিত করলে ত্বক সারাবছর ভালো থাকে।
ত্বকের সৌন্দর্যের সবচেয়ে সহজ রহস্য হলো পানি ও ঘুম। দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, এতে ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র থাকে। রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমের অভাবে ত্বক নিস্তেজ দেখায়।
যেকোনো সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা স্টোরি ২০২৬