

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র থাইল্যান্ডের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালে থাইল্যান্ডের মোট আমদানি ছিল প্রায় ৩০১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলোর পাশাপাশি বাংলাদেশও তার সম্ভাবনাময় খাতগুলো সম্প্রসারণের সুযোগ খুঁজছে। দেশটির বড় অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানিমুখী শিল্প কাঠামোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডের বাজারে চীন টেলিযোগাযোগ ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, জাপান গাড়ি ও যন্ত্রাংশ এবং তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ করে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এর বিপরীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, সিরামিক এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য থাই বাজারে প্রবেশ করতে পারে। তবে এজন্য পণ্যের মান, আমদানি শুল্ক এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে।
সোমবার থাই চেম্বারের সঙ্গে এক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা জানান, কৃষিজাত পণ্য ও হালাল খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে থাই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে।
থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য কয়েকটি সম্ভাবনাময় খাত তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে উৎপাদন ও মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে।দুই দেশের মধ্যে উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাথমিক উপকরণ বিনিময় এবং চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশের এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয়, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মতো বাধাগুলো দূর করা জরুরি। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা চলাকালীন প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংককে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।