

ঢাকা: যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রিলিমিনারি দিতে ঢাকায় এসেছিলেন প্রায় সোয়া তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী। কিন্তু পরীক্ষার হলে বসে প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে পরীক্ষা স্থগিতের খবর শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে ঢাকায় আসা এসব প্রার্থীর জন্য এই ঢাকামুখী যাত্রা কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং এক চরম মানসিক যন্ত্রণাও বটে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই চিরস্থায়ী সংকট এবং লাখ লাখ বেকারের প্রতিযোগিতার বাজারে কেন আজও সব পরীক্ষা ঢাকায় কেন্দ্র করে নেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা। অতীতে পিএসসির গাড়িচালক আবেদ আলীর মতো ব্যক্তিদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা প্রশ্নফাঁসের চক্র কোটি কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা সেই পুরোনো ক্ষতকেই আবার উসকে দিয়েছে। অথচ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ফাঁস বা বিতরণের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনি কঠোরতার ঘাটতি না থাকলেও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবের কারণেই এই চক্রগুলো বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
চাকরিপ্রার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভাগীয় শহরগুলোতেও চাকরির পরীক্ষার কেন্দ্র স্থাপনের দাবি জোরালো হচ্ছে।
বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরিতে পদের তুলনায় প্রার্থীর সংখ্যা আকাশচুম্বী। যুব উন্নয়নের ২৪২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন প্রায় ৩ লাখ ১৯ হাজার প্রার্থী, অর্থাৎ প্রতি পদের বিপরীতে লড়তে হয়েছে ১ হাজার ৩১৮ জনকে। এছাড়া সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের ৩১২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ১২ লাখের বেশি মানুষ। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জনই বেকার। বেসরকারি খাতে শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত থাকায় আকর্ষণীয় বেতন ও নিরাপত্তার কারণে যুবসমাজ এখন সরকারি চাকরির দিকে ঝুঁকছে, যা পরিস্থিতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে।
আরও পড়ুন: ধানমন্ডিতে বিয়ের খাবার খেয়ে শতাধিক ব্যক্তির ডায়রিয়ার লক্ষণ
যেখানে বিসিএস প্রিলিমিনারি বা মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে অন্যান্য সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য সারা দেশের প্রার্থীদের ঢাকায় এনে জড়ো করা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। কয়েক লাখ মানুষের ঢাকামুখী যাতায়াতে রাজধানী ও মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। তাই চাকরিপ্রার্থীদের সময়, অর্থ ও হয়রানি বাঁচাতে সব সরকারি চাকরির পরীক্ষা পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহরগুলোয় বিকেন্দ্রীকরণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।