

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম-এর ফাঁসি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা সদরে 'সচেতন নাগরিক সমাজ'-এর ব্যানারে আয়োজিত এই বিক্ষোভে শতাধিক সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সাম্প্রতিক সময়ে এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর অপমৃত্যু এবং আপত্তিকর ভিডিও ফাঁসের ঘটনার জেরে এই তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত রোববার, যখন এমপির সরকারি বাসভবন থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় মরিয়মের বাবা মাছুম বিল্লাহ বাদী হয়ে এমপি গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী এবং শ্যালক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে এমপির গাড়িচালক ও মরিয়মের আপন মামা আব্দুল্লাহ এমপি ও মরিয়মের কিছু আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ভিডিও ফাঁসের ওই ঘটনার পর পরই জামায়াত থেকে বহিষ্কার হন এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, এমপি গাজী নজরুল সাতক্ষীরা-৪ আসনকে কলঙ্কিত করেছেন। একটি মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার জীবন শেষ করে দিয়েছেন। আমরা তার ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি এবং তাকে অবিলম্বে এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করে আসনটি শূন্য ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত এমপি গাজী নজরুলের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এদিকে পুলিশ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে আটক করেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা বা আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলাটি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তদন্ত পরিচালনা করছে। ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং প্ররোচনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য কারণগুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন জনপ্রতিনিধির এ ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই হাই-প্রোফাইল মামলার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।